
প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন কোচ চাতুনি।
শেষ আপডেট: 12 June 2024 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরো নাম থুমাপার্থি কান্ডুমি চাতুনি, সংক্ষেপে টি কে চাতুনি। মোহনবাগানের প্রথম জাতীয় লিগ জয়ী কোচ। সবুজ মেরুন দলকে ১৯৯৭-৯৮ মরশুমে চ্যাম্পিয়ন করার নেপথ্যে তিনিই প্রধান কারিগর ছিলেন।
বুধবার সকাল পৌনে আটটা নাগাদ কেরলের ত্রিচুরের এক হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে চলে গেলেন জীবনের ময়দান ছেড়ে। চাতুনি মানে এক বড় ইতিহাস। তিনি মোহনবাগানে এসেছিলেন প্রয়াত কোচ অমল দত্তের জায়গায়। সেইসময় মোহনবাগান খেলছে ডায়মন্ড সিস্টেমে। ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-৪ গোলে চূর্ণ হয়েছে। তখনই কলকাতা ময়দানে পা দিয়েছিলেন কেরলের নামী কোচ।
তিনি অমল দত্তের ওই সিস্টেমকে পুরো বদলে দেননি। বরং গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের একটা দল। সেই দলের নামী সদস্য সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায় এদিন জানালেন, ‘‘চাতুনি হলেন একজন দক্ষ কোচ। যাকে ফুটবল শিক্ষক বলা উচিত। তিনি ফুটবলারদের কাছে ছিলেন স্যার। দারুণ মনের মানুষ ছিলেন। ফুটবল জীবনের নানা গল্প বলতেন আমাদের।’’
সত্যজিৎ আরও জানালেন, ‘‘উনি দলের ফুটবলারদের মতকে গুরুত্ব দিতেন খুব। সকলের সঙ্গে কথা বলে তিনি দল পরিচালনা করতেন।’’ সত্যজিতের মতো আরও এক নামী প্রাক্তন ফুটবলার উত্তম মুখোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘‘চাতুনির গেম রিডিং দুরন্ত ছিল। উনি সেইমতো দল সাজাতেন। ’’
কলকাতায় বেলেঘাটার এক ভাড়া ফ্ল্যাটে মোহনবাগান কর্তারা এই নামী কোচকে রেখেছিলেন। তিনি নিজেই রান্না করে খেতেন। কিন্তু একেবারে শেষে মোহন কর্তারা তাঁকে যোগ্য সম্মান দেননি। তাঁকে ছেঁটে ফেলার পথ হিসেবে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে নিয়ে রেখেছিলেন। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজেই ছেড়ে দেন। এমনকী সেইসময় বিমানবন্দরের কাছের হোটেলে তাঁকে কফি পর্যন্ত খাইয়েছিলেন।
চাতুনি কলকাতায় এসেছিলেন সালগাওকারের চাকরি ছেড়ে। তিনি তার আগে কোচিং করেন এফ সি কোচি, কেরল পুলিশ ও ভিভা কেরলে। তিনি ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলার আই এম বিজয়নের প্রথম কোচও। বিজয়ন শেষ দিকে নিয়মিত খোঁজ রাখতেন কোচের। মোহনবাগান সমর্থকরা এখনও ভোলেননি তাঁদের প্রথম জাতীয় লিগ জয়ী কোচকে।