দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মরসুমে এই জুটির ঝলক দেখা গিয়েছিল। এবার প্রথম পাঁচ ম্যাচে সেটি ছিল না, অবশেষে বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচে রয় কৃষ্ণ ও ডেভিড উইলিয়ামস জুটির আলো ঠিকরে বেরিয়েছে। সেই কারণে পুরো দলের খেলাই বদলে গিয়েছে অনেকটাই।
দলের কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও বলছেন, ‘‘আমি নিখুঁত ফুটবলটাই চাইছিলাম, সেটি খেলতে পেরে ভাল লাগছে, এই দলটি আরও ভাল খেলবে।’’ তিনি জানিয়েছেন, ‘‘দলে বেশকিছু বদল তিনি করেছেন কৌশলগত কারণেই, যাতে ম্যাচের আগে বিপক্ষ দল তাঁদের ছক ধরতে না পারে।’’ সেই হিসেবেই বারবার দলের প্রথম একাদশ নিয়ে কাঁটাছেড়া করছেন।
যদিও হাবাস বেশি খুশি দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড ডেভিড উইলিয়ামস গোল পাওয়ায়। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি মনেপ্রাণে চাইছিলাম ডেভিড গোলের মুখ দেখুক, তা হলে একজন স্ট্রাইকারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।’’
সবুজ-সমর্থকদের এটিকে-মোহনবাগানের স্ট্রাইকার কথা দিয়েছিলেন, বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি গোল করবেন। গত মরসুমে সুনীল ছেত্রীদের বিরুদ্ধে ৩টি গোল করেছিলেন, তাই এবারও তিনি তাল ঠুকছিলেন।
বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে এই মরসুমের প্রথম গোল পেলেন উইলিয়ামস। তিনি জানিয়েছেন, সমর্থকদের আমি কথা দিয়েছিলাম গোল করব, সেটি পালন করতে পেরে ভাল লাগছে। বেঙ্গালুরুর মতো সেরা দলের বিরুদ্ধে গোল পাওয়া যেমন তৃপ্তির, তেমনই লিগে প্রথম গোল করে দলকে ভাল জায়গায় নিয়ে যেতে পারার আনন্দও রয়েছে।”
ভারতের অন্যতম সেরা গোলকিপার গুরপ্রিৎ সিংহ সাঁধুকে টপকে গোল করেও খুশি উইলিয়ামস। হাবাসের দলের অন্যতম প্রাণভোমরা বলেছেন, “গুরপ্রিতের বিরুদ্ধে গোল করে একটু বেশিই তৃপ্তি পাই। কারণ ও ভারতের সেরা গোলকিপার, তাই ওকে হারাতে পারলে ভাল লাগে।’’
গোলটি উইলিয়ামস তাঁর পরিবার এবং দলের প্রতিটি সদস্যকে উৎসর্গ করেছেন। মোহনবাগানোর ভাল খেলার পিছনে ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়া একটা বড় কারণ। সোমবার জন্মদিন ছিল সতীর্থ প্রবীর দাশের। উইলিয়ামস বেশি খুশি তাঁর দিনটা ভাল করতে পেরে। এমনকি তিনি উচ্ছ্বসিত দলের তারকা রয় কৃষ্ণের সঙ্গে জুটি জমে গিয়েছে, এই কারণে।
সেই জুটির কথা মনে রেখেই এটিকে-মোহনবাগান তাদের সরকারি টুইটারে জানিয়েছে, ডেভিড-গোলিয়াথের অবশেষে বন্ধুত্ব স্থাপন হল দলে। এবার জয়ের দৌড় শুরু হবে। ডেভিড মানে ডেভিড উইলিয়ামস এবং গোলিয়াথ বলতে এই দলে রয় কৃষ্ণকে বোঝানো হয়েছে। কেননা গত মরসুমে এই জুটিই টেনেছিল এটিকে দলকে। এবার দুটি দলের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার পরে সেই জুটির স্বাদ পাচ্ছে সবুজ মেরুন সমর্থকরাও। তাঁরাও সোমবার ম্যাচে দেখেছেন, তাঁদের ওই জুটিকে আটকাতে কালঘাম ছুটেছে বেঙ্গালুরু দলের রক্ষণের।