বোর্ড প্রশাসক হিসেবে সৌরভ, জয় শাহর মেয়াদ কি বাড়বে? আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী ২৬ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। সেক্রেটারি হিসেবে জয় শাহর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হতে চলেছে জয়েন্ট সেক্রেটারি জয়েশ জর্জের মেয়াদ। এই অবস্থায় তাঁদের মেয়াদ
শেষ আপডেট: 22 July 2020 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী ২৬ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। সেক্রেটারি হিসেবে জয় শাহর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর শেষ হতে চলেছে জয়েন্ট সেক্রেটারি জয়েশ জর্জের মেয়াদ। এই অবস্থায় তাঁদের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বোর্ড। সেই বিষয়েই বুধবার অর্থাৎ আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। এদিনই ঠিক হয়ে যাবে ভারতের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থায় সৌরভদের ভবিষ্যৎ ঠিক কী।
বোর্ড সূত্রে খবর, বর্তমানে কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যেই দু’বার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে। প্রথমে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ও তারপর চলতি বছর এপ্রিল মাসে আবেদন জানিয়েছে বোর্ড। এদিন সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চে সেই আবেদনের শুনানি।
জানা গিয়েছে, আবেদনে বলা হয়েছে, করোনা আবহে এই মুহূর্তে বোর্ডে কোনও রকমের নির্বাচনের সুযোগ নেই। আর সামনে আইপিএল, অস্ট্রেলিয়া সফর ও ঘরোয়া মরসুম শুরু হবে। তাই বোর্ড কোনও কমিটি ছাড়া থাকতে পারে না। তাই এই মুহূর্তে বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হোক।
গত বছর বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভার বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোর্ডের সংবিধানে বেশ কিছু বদল আনতে চায় সৌরভের নেতৃত্বাধীন কমিটি। তবে সেই বদলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি দরকার তাদের। এই বদলের মধ্যে অন্যতম হল ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সেক্রেটারি হিসেবে জয় শাহর মেয়াদ বাড়ানো। অর্থাৎ তাঁদের কুলিং অফ পিরিয়ড শেষ করে দেওয়া। কারণ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্য সংস্থার প্রশাসনে কাটানো সময় জাতীয় সংস্থার হিসেবে ধরা হবে না। সংবিধানে সেই বদল আনার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া এই বার্ষিক সভায় আরও যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা হল বোর্ডের সেক্রেটারি ও প্রেসিডেন্টের হাতে বেশি ক্ষমতা দেওয়া, বোর্ড সংবিধানে কোনও বদল করলে যেন তাতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ না করতে পারে, প্রভৃতি।
তবে বিসিসিআইয়ের এই সব আবেদনে সম্মতি জানাতে গেলে সুপ্রিম কোর্টের নিজেদের সিদ্ধান্তকেই বদল করতে হবে। তাই এই বিষয়ের শুনানি একমাত্র বৃহত্তর বেঞ্চ নিতে পারে। বোর্ডের নিয়মে আগে বদল এনেছিল তিন সদস্যের বেঞ্চ। এদিন শুনানি হওয়ার কথা দুই সদস্যের বেঞ্চে। অর্থাৎ এই বেঞ্চ শুধুমাত্র সৌরভদের মেয়াদ নিয়ে শুনানি করতে পারবে। বোর্ডের অন্য আবেদন নিয়ে শুনানি করার ক্ষমতা এই বেঞ্চের নেই।
ইতিমধ্যেই বোর্ডের সিইওর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাহুল জোহরি। জেনারেল ম্যানেজার ক্রিকেট অপারেশনস থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সাবা করিমও। এই অবস্থায় আরও কর্তাদের হারাতে চাইছে না বিসিসিআই। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও আইপিএল নিয়ে বৈঠকে যোগ দিয়েছেন জয় শাহ। তাতে কেউ আপত্তি জানায়নি।
সূত্রের খবর, এদিনের শুনানিতে বিহার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বোর্ডের আবেদনের বিরুদ্ধে কোনও আপত্তি জানানো হবে না। অর্থাৎ বোর্ডের আবেদন নিয়ে কারও কোনও আপত্তি নেই। এখন দেখার সৌরভ ও জয় শাহর মেয়াদ নিয়ে বোর্ডের আবেদনের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট।