দ্য ওয়াল ব্যুরো: তীরে এসে তরী ডুবলো। মালদ্বীপের কাছে হেরে সাফ কাপে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। ২-১ গোলে ভারতকে হারিয়ে ২০০৮ সালের পর ফের সাফ কাপ চ্যাম্পিয়ন হলো মালদ্বীপ।
সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল ভারতীয় শিবিরকে। মালদ্বীপের বিরুদ্ধে নামার আগেও যেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নেই বুঁদ হয়েছিলেন ফুটবলাররা। আর সেটাই যেন কাল হল। ব্রিটিশ কোচ মুখে যতই বলুন, মালদ্বীপকে হালকাভাবে নেবেন না, কিন্তু ফুটবলারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে ধরা পড়ল অন্য ছবি।
রীতিমতো ছন্নছাড়া ফুটবল খেলল দল। প্রথমার্ধে মহুধির করা গোলে পিছিয়ে পড়ার পর জঘন্য ডিফেন্সের কারণে দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল হজম করতে হল ভারতকে। গোল করে ভারতের হাত থেকে খেলা ছিনিয়ে নিলেন ফাসির। ম্যাচের শেষ লগ্নে একটি গোল শোধ করেন সুমিত পাসসি। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছে। আর তাতেই ২০০৮ সালের পর দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল মালদ্বীপ।
কিন্তু শুধুই কি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস? নাকি অন্য কোনও কারণও দায়ী ভারতের এই হারের পিছনে? নাহলে কদিন আগে যে মালদ্বীপকে হারিয়েছিল ভারত সেই মালদ্বীপের কাছেই হারতে হলো।
সাফ কাপের মতো বড় একটা টুর্নামেন্টের জন্য অনূর্ধ্ব ২৩ দলের ফুটবলারদের উপরই বেশি ভরসা রেখেছিলেন কনস্ট্যানটাইন। গোটা টুর্নামেন্টে বেশ ভাল ছন্দেই দেখা গিয়েছিল দলকে। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবল। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নেমেছিলেন মনবীররা। কিন্তু লড়াইয়ের আগেই যেন ধরে নিয়েছিলেন, কাপ জেতা তাঁদের কাছে সময়ের অপেক্ষা। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগায় বিপক্ষ।
নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা মালদ্বীপ এদিন প্রথম থেকেই খেলার রাশ নিজেদের হাতে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত একই ছন্দে খেলা চালিয়ে যায় তারা। এ দিন প্রতিপক্ষ আরও বড় ব্যবধানে জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। ছেলেদের দুর্দান্ত প্রদর্শনে উচ্ছ্বসিত মালদ্বীপের কোচ পিটার সেগ্রেট। তবে কাপ হাতছাড়া হওয়ার পর ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছে, এমন গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে জুনিয়রদের নিয়ে এতটা পরীক্ষা না করলেই পারতেন স্টিফেন।