
নরেন্দ্র মোদী - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 April 2024 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বছর আগে বিধানসভা ভোট, তার আগে ২০১৯-এর লোকসভা ভোট দফায় দফায় মণিপুরে প্রচারে গিয়েছেন। এবার লোকসভা ভোটের প্রচারে একবারও যাননি। বুধবার প্রধানমন্ত্রী মণিপুরের পড়শি রাজ্য ত্রিপুরা ও অসমে জনসভা করেন। মণিপুরের মতো ত্রিপুরাতেও লোকসভার দুটি আসন। কিন্তু মণিপুরে যাননি। শুক্রবার প্রথম দফায় যে ১০২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে, তাতে মণিপুর ইনার ও আউটার কেন্দ্র দুটি আছে।
গত বছর ৩ মে পার্বত্য মণিপুরের চূড়াচাঁদপুরে শুরু হওয়া জাতি দাঙ্গা সারা রাজ্য এমনকী রাজধানী ইম্ফলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনও গোটা রাজ্যে শান্তি ফেরেনি। বহু মানুষ আশ্রয় শিবিরে আছেন। সেখানেই তাদের ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা হয়েছে। যদিও কুকি ও মৈতেই, বিবদমান দুই গোষ্ঠীর মুখেই শোনা গিয়েছে ভোট বয়কটের কথা। দুই জাতি গোষ্ঠীর বহু মানুষ এখনও নিজেদের এলাকায় ফিরতে পারেননি। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব দুই গোষ্ঠীই।
জাতিদাঙ্গার বর্ষপূর্তির মুখে হওয়া লোকসভা ভোটে মণিপুর শেষ পর্যন্ত কতটা সাড়া দেয় তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রচারে না যাওয়া। প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়া নিয়ে বিজেপি নেতারা একান্তে নিরাপত্তার কথা বলেছেন। তাতেও প্রমাণ হয়, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যতই শান্তি ফেরার কথা দাবি করুন, পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক হয়নি। বিজেপির একটি সূত্রের খবর, নিরাপত্তা আঁটসাঁট করে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর সভার আয়োজন করা যেত। তাতে বিক্ষোভের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। তাছাড়া রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে ইম্ফল উপত্যকা এবং পার্বত্য মণিপুরের জন্য পৃথক জনসভা করতে হত। এতসব জটিলতার কারণে এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী সফরসূচি থেকে মণিপুরকে বাদ রাখা হয়। বিজেপি নেতারা একান্তে মানছেন, ‘সম্পদ’ মোদীই মণিপুরে দলের ‘বোঝা’ হয়ে উঠেছেন।
এমন পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হল? উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির প্রতি তাঁর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী প্রায়ই বলে থাকেন, ‘নর্থ ইস্ট অভি দিল্লি সে, অউর দিল সে ভি দূর নেহি।’ সেই উত্তর পূর্বের অন্যতম রাজ্য মণিুপুরের জাতি দাঙ্গা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ খোলাতে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হয়েছিল সংসদে। লোকসভায় কয়েক লাইন ভাষণেই সীমাবদ্ধ প্রধানমন্ত্রীর মণিপুর নিয়ে প্রতিক্রিয়া। বারে বারে বলা সত্ত্বেও রাজ্য সফরে যাননি।
সেই উপেক্ষা জনিত পরিস্থিতির কারণেই এবার ভোটের প্রচারেও এড়িয়ে গেলেন এই পাহাড়ি রাজ্য, মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও অসমের একটি খবরের কাগজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের বীরেন সিং সরকার মণিপুর পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকারও। বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতি মুহূর্ত মণিপুরের দিকে নজর রেখেছেন।
মণিপুরের দুই আসনেই সরাসরি লড়াই হচ্ছে বিজেপি ও কংগ্রেসের। প্রধানমন্ত্রী প্রচারে না যাওয়ায় বিজেপি তাঁর ভাষণের রেকর্ড বাজিয়েছে প্রতিটি সভায়। হোয়াটসঅ্যাপেও প্রচার করা হয়েছে মোদীর ভাষণ। সংসদে দাঁড়িয়ে শান্তি ফেরানোর আর্জি ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ওই রাজ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন বিজেপি নেতৃত্ব।