
শেষ আপডেট: 21 November 2023 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতকাল এলেই নিউমোনিয়ার প্রকোপ শুরু হয়। ৬০ থেকে ৬৫ বছরের বেশি বয়স হলে অথবা চার বছরের কমবয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় বেশি। ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে এই রোগ হয়। অল্প থেকে ক্রমশ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে নিউমোনিয়া।
বাচ্চাদের ভয় বেশি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, পাঁচ বছরের নীচে ১৫ শতাংশ শিশুর মৃত্যুর কারণই হল নিউমোনিয়া। গত তিন বছরে এই অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। নিউমোনিয়া ফুসফুসেরই জটিল অসুখ। ফুসফুসে জল জমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে দূষণও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ফলে সামান্য সর্দি-কাশি সারতেও সময় লাগছে অনেক দিন। চিকিৎসকরা বলছেন, আমাদের দেশে ৩০ লক্ষ শিশুর নিউমোনিয়া সিভিয়ার অর্থাৎ মারাত্মক ধরনের। প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে ৫ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ফুসফুসের এই অসুখে শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্যই ভ্যাকসিনের প্রয়োজন এখন সবচেয়ে বেশি।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে জীবাণুর দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি হয় বলে এই সময়ে নিউমোনিয়ার প্রকোপে বেশি মানুষ আক্রান্ত হন। নিউমোনিয়া মূলত তিন ধরনের। কমিউনিটি অ্যাকুয়ার্ড নিউমোনিয়া (ক্যাপ), হসপিটাল অ্যাকুয়ার্ড নিউমোনিয়া (হ্যাপ) আর ভেন্টিলেটর অ্যাকুয়ার্ড নিউমোনিয়া (ভ্যাপ)।
কোন শিশুদের নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি
সিওপিডি, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, হাঁপানি ও অ্যালার্জির ধাত আছে যে শিশুদের, তাদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় বেশি।
কী কী লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন
নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হল জ্বর। তার সঙ্গে কাশি। পাশাপাশি, শ্বাসকষ্টও থাকে। সংক্রমণ যত বাড়ে, শ্বাসকষ্টও বাড়তে থাকে। বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে বুকের ব্যথার এই ধরন একটু আলাদা। সাধারণত, গভীর শ্বাস নেওয়ার সময়ে এই বুকের ব্যথা হবে। ফুসফুসের প্রদাহের কারণে এই ব্যথা হয়। এ ছাড়া, মাথায় যন্ত্রণা, ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া, খাওয়ায় অনীহা, সারাক্ষণ বমি বমি ভাবও আনুষঙ্গিক লক্ষণের মধ্যে পড়ে।
নিউমোনিয়ার প্রথম দিকে সাধারণ জ্বর, সর্দি এবং সঙ্গে কাশির উপসর্গই দেখা যায়। তবে কিছু দিন পর থেকেই এই উপসর্গগুলির প্রকোপ বাড়তে থাকে। দেখা যায়, জ্বর কিছুতেই কমছে না। সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। কাশিও একই ভাবে বাড়ছে। বুকের ব্যথাও থাকছে।
কী কী ভ্যাকসিন দিয়ে রাখা ভাল
ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া সারাতে দরকার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ। ভাইরাস ঘটিত নিউমোনিয়া সারাতে প্রয়োজন অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। ফাঙ্গাল নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে দরকার অ্যান্টিফাঙ্গাল।
হিমোফিলিস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি ভ্যাকসিন(HIB)--পাঁচ বছরের নীচের বাচ্চাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে। ৬, ১০, ১৪ সপ্তাহে ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়, সেই সঙ্গেই বুস্টার ডোজ দেওয়া হয় ১৫ থেকে ১৮ মাস পর।
নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন—৬৫ বছরের উপরে ও ২ বছরের নীচে বাচ্চাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ৬, ১০, ১৪ সপ্তাহে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এছাড়া একটি বুস্টার ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাসে।
নিউমোকক্কাল পলিস্যাকারাইড ভ্যাকসিন—এই টিকা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন—এটা ফ্লু ভ্যাকসিন। শিশুদের দিয়ে রাখা ভাল। বছরে ২টি করে ডোজ দেওয়া হয়।
তবে রোগের ধরন অনুযায়ী ভ্যাকসিন ও তার ডোজ নির্ধারিত হয়। সকলের উপসর্গ এক নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত।