
শেষ আপডেট: 13 January 2024 22:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের সঙ্গে মাখামাখির পর থেকেই সুর বদল গেছে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর। ভারতের সঙ্গে একেবারে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া শুরু করেছেন তিনি। কখনও বলছেন, ‘চিনই সবচেয়ে কাছের বন্ধু’ আবার কখনও নাম না করেই ভারতকে উদ্দেশ্য করে সুর চড়াচ্ছেন, “কেউ আমাদের ধমকে চমকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না”।
চিন সফর সেরে সদ্যই ফিরেছেন মুইজ্জু। তারপর থেকেই ভারতের নাম না করেই একের পর এক মন্তব্য করে যাচ্ছেন। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, “হতে পারি আমরা ছোট, কিন্তু পিছিয়ে নেই। কারও আধিপত্য মানব না। আমাদের কেউ প্রভাব খাটিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।” এই কথাগুলো যে ভারতকে উদ্দেশ্য করেই বলা, তা আর বুঝতে বাকি নেই কারও।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাক্ষাদ্বীপের প্রচার করার পর থেকেই বেজায় চটেছেন মলদ্বীপের কিছু গণ্যমান্য নেতা-মন্ত্রী। শুধু চোখ রাঙিয়েই তাঁরা ক্ষান্ত হননি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে যা নয় তাই বলে কুৎসিত মন্তব্য করেছেন। এইসব কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মলদ্বীপকে রীতিমতো বয়কট করা শুরু করেছে ভারত। বলিউডের সেলেব থেকে নামীদামি ক্রিকেটার—একেবারে কামান দেগে দিয়েছেন। মলদ্বীপের বদলে লাক্ষাদ্বীপে পর্যটন বাড়াতে জোরকদমে প্রচার শুরু হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।
এমনিতেও মলদ্বীপ পর্যটন প্রধান দ্বীপরাষ্ট্র। ভারত থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা খরচ করে মলদ্বীপে লাক্সারি ট্যুর করেন সেলেব থেকে ব্যবসায়ীরা। কাজেই ভারতীয় নেটাগরিকদের ‘বয়কট মলদ্বীপ’-এর ঠেলা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র। হাজার হাজার বিমানের টিকিট, হোটেলের বুকিং বাতিল করেছেন ভারতীয়রা। মলদ্বীপের মন্ত্রীদের বরখাস্ত করে, প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েও লাভ হয়নি। তাই এবার উল্টো সুর ধরেছেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু।
মলদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এমনিতেই চিনপন্থী বলে পরিচিত। আর চিনে গিয়ে মুইজ্জুর কথাবার্তার ধরনই বদলে গিয়েছিল। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রশংসায় ভরিয়ে মুইজ্জু বলেছেন, “মলদ্বীপের উন্নয়নে চিনের ভূমিকাই বেশি। চিনই মলদ্বীপের সবচেয়ে কাছের বন্ধু।” মুইজ্জুর এমন কথাবার্তার প্রতিবাদে ভারতীয় অনেক নেটাগরিকই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ‘অপারেশন ক্যাকটাস’-এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। মলদ্বীপের চরম বিপদের দিনে কীভাবে ভারতের তিন বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে বাঁচিয়েছিল সে কথাই সবাই মনে করাচ্ছেন বারবার। আর তাতেই উল্টো কাঁদুনি গেয়ে মুইজ্জু বলতে শুরু করেছেন যে কারও আধিপত্যের নীচে মলদ্বীপ থাকবে না। শোনা গেছে, চিনের সঙ্গে আর্থিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তিতেও নাকি সই করে এসেছেন মুইজ্জু।