
শেষ আপডেট: 26 December 2023 08:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ১৯-এর ফাঁড়ার মধ্যেই মাথাচাড়া দিয়েছে আরও এক ভাইরাস ঘটিত রোগ। 'জম্বি ডিয়ার ডিজিজ' ওরফে ক্রনিক ওয়েস্টিং ডিজিজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন গুনছেন বিজ্ঞানীরা। গত নভেম্বর মাসে ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক, ওয়াইমিং-এ পাওয়া একটি হরিণের মৃতদেহ পরীক্ষা করে এই মানুষের শরীরে রোগের হদিশ পাওয়া গেছে। আর তারপর থেকেই ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোগটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা।
ঠিক কী এই 'জম্বি ডিয়ার' রোগ? বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাস প্রবেশ করলে আক্রান্তের শরীরে স্বাস্থ্যকর মস্তিষ্কের প্রোটিনগুলি ভাঁজ হয়ে যায়। এই ভাইরাসগুলিও এক ধরনের প্রোটিনও বটে। যা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের দেহে জম্বি ভাইরাস রোগের সম্ভাবনা তৈরি করে। সেক্ষেত্রে অত্যন্ত সংক্রামক ওই রোগটি সংক্রামিত প্রাণীর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সাধারণত জম্বি ডিয়ার রোগের কিছু লক্ষণ হল-রোগীর হঠাৎ করে অনিদ্রা বা ডিমেনশিয়া বেড়ে যাওয়া, হ্যালুসিনেশন অর্থাৎ ভয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকা,, হাঁটা ও কথা বলতে অসুবিধা, বিভ্রান্তি, ক্লান্তি এবং পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া। প্রাথমিকভাবে রোগটি হরিণের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে মানুষের জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। উত্তর আমেরিকার অসংখ্য মানুষের মধ্যে জম্বি ডিয়ার রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
কেনই বা ভাইরাসঘটিত এই রোগটিকে 'জম্বি' নাম দেওয়া হয়েছে? আসলে সিডাব্লুডি রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর হাঁটাচলা জম্বির মতো অবিন্যস্ত এবং বিকৃত হয়ে যায়। সেই কারণেই গবেষকরা একে 'জম্বি ডিয়ার ডিজিজ' অ্যাখ্যা দিয়েছেন। দীর্ঘকাল এই রোগটির হরিণের দেহে প্রভাব ফেলতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু গত মাসে ইয়েলোস্টোনে প্রথম মানুষের শরীরে এই রোগের সন্ধান মিলেছে। যা গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আগামী দিনে ভয়ঙ্কর রোগটি মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের।