পাকিস্তান (Pakistan) ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) তৈরি নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ভারত ৭ মে ভোরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) কার্যক্রম শুরু করে। ভারত এই হামলা ছিল 'সুনির্দিষ্ট এবং সীমিত'- যার উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে হামলার ক্ষমতাকে দুর্বল করা।
.jpg.webp)
পাকিস্তানের দুই নেতার স্বীকারোক্তি
শেষ আপডেট: 28 December 2025 19:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি (Pakistan President Asif Ali Zardari ) এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ইশক দারের (Deputy Prime Minister Ishaq Dar) সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের স্পষ্ট হয়ে গেল, চলতি বছরের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ পাকিস্তানের প্রশাসন এবং সেনার মধ্যে কতটা তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছিল। পহেলগামে জঙ্গিদের হামলায় (Pahalgam Terror Attack) ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যুর বদলা নিতে ভারতের ত্রিস্তরীয় সামরিক বাহিনী অভিযান চালায়। সেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) সময় পাকিস্তানের ভিতরের বাস্তব পরিস্থিতি এবার প্রকাশ্যে আনলেন দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা দুই নেতাই।
এক অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় জারদারি জানান, ওই সময়ে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাঁকে বাঙ্কারে লুকানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, প্রশাসনেরই কিছুজন এসে সতর্ক করে বলেন, “স্যার, যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। ভারত পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam Terror Attack) বদলা নিচ্ছে।” পাক প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি চারদিন আগেই সেনা কর্তাদের বলেছিলেন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেকোনও সময়ে যুদ্ধে গড়াতে পারে। তবে বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে তিনি অস্বীকার করেন। তাঁর কথায়, “নেতারা বাঙ্কারে লুকিয়ে মরে না। যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করেই মরতে হয়।”
এই স্বীকারোক্তির কয়েক ঘণ্টা পরেই আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইশক দার। তিনি প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে ভারতের হামলায় রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেস ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ভারতের ৩৬ ঘণ্টার আক্রমণে অন্তত ৮০টি ড্রোন ঢুকে পড়ে। যদিও পাকিস্তানের দাবি, ৭৯টি ড্রোন তারা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল, তবুও বায়ুসেনাঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবংকর্মীরাও আঘাত পেয়েছিলেন।
জানা যায়, পাকিস্তান (Pakistan) ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) তৈরি নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ভারত ৭ মে ভোরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) কার্যক্রম শুরু করে। ভারত এই হামলা ছিল 'সুনির্দিষ্ট এবং সীমিত'- যার উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা এবং ভবিষ্যতে হামলার ক্ষমতাকে দুর্বল করা। তবে এর জেরে সীমান্তজুড়ে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায়। পাকিস্তান গোলাবর্ষণ বাড়ায়, ভারতও পাল্টা জবাব দেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বড় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। তাদের সামরিক প্রশাসনের ডিআইজি ভারতীয় সেনা কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ থামানোর আবেদন করেন। ভারত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে- সব ধরনের অভিযান বন্ধ করতে উভয় দেশই সম্মত হয়। পরে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এই খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
পাক প্রশাসনের দুই কর্তার পরপর স্বীকারোক্তি শুধু ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রভাবই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে ভারতের অবস্থান কীভাবে বদলে গেছে তাও নতুন করে মনে করিয়ে দিল। তবে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংসের পরও পাকিস্তান কি সত্যিই শিক্ষা নেবে, এই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।