
শেষ আপডেট: 11 January 2024 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে মলদ্বীপ থেকে এখন মুখ ফিরিয়েছে ভারত। আর এই সুযোগেই মলদ্বীপের আরও কাছে ঘেঁষার চেষ্টায় রয়েছে চিন। ভারত-মলদ্বীপ টানাপড়েনের মধ্যেই চিন সফরে গিয়েছেন মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। সেখানে গিয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে মুইজ্জু বলেছেন, “মলদ্বীপের উন্নয়নে চিনের ভূমিকাই বেশি। চিনই মলদ্বীপের সবচেয়ে কাছের বন্ধু।”
বুধবার চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় মুইজ্জু আরও বলেন, চিনই হল সবচেয়ে পুরনো বন্ধু ও ঘনিষ্ঠতম সহযোগী। করোনার সময় চিনই ছিল তাদের বাণিজ্য সহযোগী।
ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন মলদ্বীপের তিন মন্ত্রী। তাঁদের সাসপেন্ড করা হলেও বিতর্কের ঝড় এখনও থামেনি। দ্বীপরাষ্ট্রটির বিরোধী দলগুলি এই বিতর্কে কার্যত ভারতের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এই আবহেই চিন সফররত মলদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তাব দিয়েছেন সে দেশের এক বিরোধী নেতা।
কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, ভারতকে অবমাননা করার পিছনে বেজিংয়ের অদৃশ্য রিমোট কাজ করেছে। ভারতের থেকে অনেক পরে মলদ্বীপের সঙ্গে পাকাপোক্ত সম্পর্ক তৈরির কাজ শুরু করেছিল বেজিং। ২০১১ সালে সে দেশে দূতাবাস খোলে চিন। কিন্তু এর মধ্যেই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে কার্যত হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছে শি চিনফিংয়ের সরকার। সহজ সুদে ঋণ দিয়ে সেখানে একের পর এক রাস্তা ও বন্দর তৈরি করিয়েছে চিন। মলদ্বীপের বিমানবন্দর ঢেলে সাজিয়েছে। অন্য দিকে, মলদ্বীপও চিনের হাতে কিছু দ্বীপ এলাকা তুলে দিয়েছে উন্নয়নের জন্য। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, উন্নয়নের আড়ালে সেখানে নিজেদের কৌশলগত ঘাঁটি তৈরি করছে চিন যা ভারতের জন্য ত্রাসের কারণ।
তবে শুধু চিনের উস্কানিই নয়। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, এর পিছনে ভারত-মলদ্বীপ বর্তমান তিক্ততাও কাজ করছে। একটা সময় ইয়ামিন সরকারের বিরোধী-দমন নীতি নিয়ে নয়াদিল্লির সুর চড়ানোটাও ভাল চোখে দেখেনি মলদ্বীপের শাসক দল। এর আগে নয়াদিল্লি আয়োজিত ১৬ দেশের নৌ-মহড়া থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিল মলদ্বীপ। তবে এর পরেও ভারত-মলদ্বীপের সুসম্পর্কের একটা বড় কারণ পর্যটন। পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি মলদ্বীপের। প্রতি বছর ভারত থেকেই সবথেকে বেশি সংখ্যক পর্যটক মলদ্বীপে ছুটি কাটাতে যান। এখন সেটা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে মলদ্বীপ। এখন পর্যটক পাঠাতে চিনের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট মইজ্জু। জানা যাচ্ছে, , ভারত মহাসাগরে পর্যটনকে আরও উন্নত ও জনপ্রিয় করতে চিন ও মলদ্বীপ ৫০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।