বৃহস্পতিবার এক দীর্ঘ বক্তব্যে, ট্রাম্পের দাবি ও সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার ‘সাফল্য’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন খামেনেই।

শেষ আপডেট: 27 June 2025 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আত্মসমর্পণ করতে হবে’— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই বলেন, ‘এই ধরনের কথা ট্রাম্পের মুখে মানায় না।’
বৃহস্পতিবার এক দীর্ঘ বক্তব্যে, ট্রাম্পের দাবি ও সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার ‘সাফল্য’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন খামেনেই। X (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে হবে’। এধরনের কথা তার মুখে মানায় না। এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো কারও বলার উপযুক্ত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকা যে সামরিক হামলা চালিয়েছিল, তা থেকে কিছুই অর্জন করতে পারেনি তারা। যদি আরও হামলার চেষ্টা হয়, তবে তার ফল ভাল হবে না।’
গত রবিবার ভোররাতে আমেরিকার B-2 বোমারু বিমান ও সাবমেরিন থেকে ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গিয়েছে। একে তিনি “A spectacular military success’’ বলে আখ্যা দেন।
তবে ট্রাম্পের এই মূল্যায়নের তীব্র বিরোধিতা করেছেন খামেনেই। প্রথমবার প্রকাশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় ইরান আমেরিকান শাসনের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে।’
তাঁর দাবি, ‘যুদ্ধের ময়দানে আমেরিকা প্রবেশ করেছিল শুধুমাত্র ইজরায়েলকে রক্ষা করতে।’ খামেনেইর মতে, যুদ্ধ শুরু করেও আমেরিকা কিছুই অর্জন করতে পারেনি।
এদিকে, হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রচারিত ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা চলতে পারে না। শান্তি আসবে, না হলে ইরানের জন্য সামনে আসবে এক গভীর ট্র্যাজেডি, যা গত আট দিনে আমরা দেখেছি তার থেকেও ভয়ানক হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে এখনও অনেক টার্গেট আছে। আজকের টার্গেট ছিল সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। কিন্তু যদি শান্তি না আসে, তাহলে পরবর্তী টার্গেটগুলিতে দ্রুত, নিখুঁত এবং কুশলীভাবে হামলা হবে।’ সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) ট্রাম্প লেখেন — “Unconditional surrender” — অর্থাৎ, ইরানকে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
এই উত্তেজনার সূচনা হয় ১৩ জুন, যখন ইজরায়েল “Operation Rising Lion” নাম দিয়ে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কেন্দ্রে বড়সড় বিমান হামলা চালায়। তার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান “Operation True Promise 3” চালু করে — যাতে ইজরায়েলের বিশেষ জায়গা লক্ষ্য করে একাধিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা হয়।
এই আবহে আমেরিকা সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।