ইরানের হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মূলত সংযুক্ত আরব এমিরেটস ও বাহরাইন। আবু ধাবির আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং এসেছে হতাহতের খবরও। দুবাইতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

শেষ আপডেট: 1 March 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের (Khamenei Death)। তারপরই মার্কিন-ইজরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান (Iran Israel War)। ফলে আরব দুনিয়ায় সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। কারণ পাল্টা স্ট্র্যাটেজিক হামলায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে আরব দুনিয়ার একাধিক এলাকায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে জানানো হচ্ছে।
ইরানের হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মূলত সংযুক্ত আরব এমিরেটস ও বাহরাইন। আবু ধাবির আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং এসেছে হতাহতের খবরও। দুবাইতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নামাতে সক্ষম হয়েছে। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
দ্বীপ রাষ্ট্র বাহরাইন–এর রাজধানী মনামাতে একটি হোটেলে ড্রোন হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি রয়েছে। ফলে এই হামলাকে কৌশলগত বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছে।
কুয়েতে একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি আঘাত প্রতিহত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একইভাবে কাতারেও সতর্কতা জারি করা হয়। রাজধানী দোহা–র আকাশসীমা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি অবস্থিত।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের শহর এরবিলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে ঘিরেও উত্তেজনার খবর এসেছে। সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের এই হামলার ফলে পুরো গালফ অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একাধিক দেশ আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, বিমান চলাচলে প্রভাব পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। কারণ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বহুদিন ধরেই সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছে।
আমেরিকা ও ইজয়েলের যৌথ আক্রমণের জবাবে এই হামলাগুলি ঘটিয়েছে ইরান। ইরানি সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, আরব দুনিয়ার বিভিন্ন মার্কিন ও ইজরায়েলি ঘাঁটিই এখন তাদের 'টার্গেট'। এই ঘোষণায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ফলে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের বেশিরভাগ দেশই তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
এই সংঘর্ষের ফলে আরব দুনিয়ার পরিস্থিতি কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বিমানবন্দর, অর্থনৈতিক কেন্দ্র, আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণ, আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় স্থগিতাদেশ— এসবই নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।
ইরানের এই প্রতিক্রিয়ায় আরব দুনিয়ার দেশগুলি বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সংযুক্ত আরব এমিরেটস-সহ অন্যান্য গালফ রাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং তাদের উপর এই আক্রমণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এই সংঘাত শুধুমাত্র সামরিক নয়—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বিশ্বস্ততা ও স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে। যার প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি রফতানি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককেও প্রভাবিত করছে।