
শেষ আপডেট: 27 December 2023 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়দিনের আগে থেকে হিংসার আগুন জ্বলছে। ধারাবাহিক জঙ্গি হামলায় ফের বিধ্বস্ত নাইজেরিয়া। নতুন বছরের আগেই রক্ত ঝরল আফ্রিকার এই দেশটিতে। দফায় দফায় হামলা চলছে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর উপরে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হিংসার ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৬০ জনেরও বেশি। নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ঘটনার পিছনে ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারাম এবং তার সহযোগী কয়েকটি সংগঠন রয়েছে বলে অভিযোগ।
ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনায় বিগত কয়েক বছর ধরেই জর্জরিত প্লাতিউ রাজ্যটি। যে অঞ্চলগুলিতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী, সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় পাশাপাশি বসাবস করেন বলেই জানা গিয়েছে। স্থানীয় মুসলিম পশুপালক এবং খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে বিবাদ। সূত্রের খবর, বড়দিনের দিন খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর উপরে ভয়ানক হামলা হয়। গ্রামের পর গ্রাম মানুষজনের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে গ্রামবাসীদের।
সন্ত্রাসের রেশ এখনও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘরবাড়ি জ্বালানোর পাশাপাশি নির্বিচারে চলেছে গুলি। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলছেন, “পালানো ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। রক্তের নেশায় উন্মত্ত ওরা। রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লাশ। শিশু, মহিলা কাউকে রেহাই দেয়নি। রাস্তার উপরেই আর্তনাদ করছে কয়েকশো মানুষ। এ সব দৃশ্য আর চোখে দেখা যায় না।”
বছর দু’য়েক ধরেই দেশ জুড়ে সন্ত্রাস ছড়িয়েছে বোকো হারাম। স্থানীয় এক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, শুধু গত বছরেই ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন জঙ্গিহানায়। ঘরছাড়া অন্তত দেড় লাখ।
অস্ত্রে এবং অর্থে ক্রমশই আড়েবহরে বাড়ছে বোকো হারাম। খুন, লুঠপাটের পাশাপাশি ২০০-রও বেশি স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ উঠেছে জঙ্গি গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে। গত ছ’মাসে দেশের উত্তর-পূর্ব অংশে ২৪টিরও বেশি গ্রাম-শহরের দখল নিয়েছে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের কবল থেকে মুক্তি পেতে রোজই বাড়ি ছাড়ছেন শতাধিক।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, জঙ্গি হানা থেকে বাঁচতে শয়ে শয়ে মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে পালাচ্ছেন। খাবার, জল নেই। বোকো হারাম দেশে কঠোর শরিয়তি বিধান চালু করতে চায়। তাদের হাতে আছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক, যা পুলিশ বা সেনার কাছেও নেই। ২০০৯ সালে পুলিশ তাদের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ ইউসুফকে গ্রেফতার করে হত্যা করে। নতুন যে প্রধান, সে আরও কট্টর। সে ঘোষণা করেছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে সমস্ত খ্রিস্টানকে চলে যেতে হবে, নয়তো ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। এই নিয়েই হিংসা চলছে। মহিলাদেরও রেয়াত করা হচ্ছে না। ধর্ম পরিবর্তন করতে নারাজ এমন মহিলাদের তুলে এনে যৌনদাসী করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ প্রশাসনের।