গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি (Astrology) এবং তাদের পারস্পরিক সংযোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে, এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে মানব সভ্যতা, যার প্রভাব পড়তে চলেছে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও।

ছবি- এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 5 August 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে, ২০২৫-২৬ সাল বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। প্রখ্যাত জ্যোতিষীরা (Astrology) মনে করছেন, এই সময়ে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সমাজ- তিন ক্ষেত্রেই দেখা দেবে আমূল পরিবর্তন। গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি এবং তাদের পারস্পরিক সংযোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে, এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে মানব সভ্যতা, যার প্রভাব পড়তে চলেছে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও।
প্রথমে স্থিতিশীলতা, পরে চাপ: ২০২৬-এর অর্থনৈতিক পূর্বাভাস
প্রখ্যাত জ্যোতিষী (Astrology) আচার্য দেবশর্মার মতে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অর্থনীতিতে থাকবে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা। তবে বছরের শেষভাগে মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, বাবা ভাঙ্গা, বুলগেরিয়ার বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বক্তা পূর্বাভাস দিয়েছেন, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে। এর পেছনে থাকতে পারে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, প্রযুক্তিগত বিপর্যয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান
পাশাপাশি, শুক্র ও মঙ্গলের অবস্থানও নানা রাশিতে ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে, যা ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে পরিবর্তন আনবে।
২০২৬: এক নতুন যুগের সূচনা
অনেক জ্যোতিষীর মতে, ২০২৬ সাল কেবল আরেকটি নতুন বছর নয়- এটি এক নতুন যুগের সূচনার প্রতীক। বৃহস্পতি, শনি ও রাহুর সংযুক্ত গতি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রগুলিতে এক বৈপ্লবিক রূপান্তরের দিকনির্দেশ দিচ্ছে। এর ফলে নতুন আদর্শ, নীতি ও ব্যবস্থার উদ্ভব হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। যেমন,
এই তিনটি ক্ষেত্র বড় ধরনের অগ্রগতি দেখবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুরনো শিল্পে চ্যালেঞ্জ বাড়বে, তবে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও কৃষি খাতে বিপুল বিনিয়োগের ইঙ্গিত মিলছে।
প্রযুক্তি ও সমাজের রূপান্তর
২০২৬ সালে প্রযুক্তির বিকাশ সমাজের গঠন ও মূল্যবোধেও পরিবর্তন আনবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT), এবং AI-এর প্রভাব স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আরও প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এক নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর সূচনা হবে, যেখানে প্রযুক্তি-নির্ভরতা ও মানবিক মূল্যবোধ সমান্তরালভাবে এগোবে।
জ্যোতিষচর্চার পুনরুত্থান
ডিজিটাল যুগে জ্যোতিষচর্চার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী-
২০২১ সালে ভারতে জ্যোতিষশাস্ত্রের বাজার ছিল প্রায় ১.০৯ লক্ষ কোটি টাকা। ২০৩১ সালের মধ্যে এই বাজার পৌঁছাতে পারে প্রায় ১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকায়।
৫১% ভারতীয় প্রতিদিন অনলাইন রাশিফল দেখেন এবং ৮৮% অন্তত সপ্তাহে একবার। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভবিষ্যদ্বাণী সরাসরি অর্থনীতিকে না ছুঁলেও, মানুষের মনের উপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে বাজারে আস্থা বাড়ে বা কমে।
শিল্পখাতে সম্ভাব্য রদবদল
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন যুগের এই সূচনা একদিকে যেমন পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে মানব সভ্যতার এগিয়ে যাওয়ার নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে। জ্যোতিষশাস্ত্রের ইঙ্গিত তাই শুধু কল্পনায় নয়, বাস্তব প্রস্তুতির কথাও বলছে।