
শাড়ি ক্যানসার কী?
শেষ আপডেট: 4 May 2024 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার নামটা শুধু শুনলেই আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হয়। আর ক্যানসারের নাম যদি ‘শাড়ি ক্যানসার’ হয় তাহলে তো চিন্তার বিষয়ই বটে। এমন অদ্ভুত নাম শুনে বহু মানুষই আতঙ্কে আছেন। তার মানে কি শাড়ি থেকে ক্যানসার হয়? কেন হয়? সত্যিই কি এমনটা হওয়া সম্ভব?
যতই অদ্ভুত মনে হোক, এমনটা কিন্তু হয়। ১৯৪৫ সালে প্রথমবার এই শব্দবন্ধ শোনা গিয়েছিল। যদিও একটু আলাদা। তখন বলা হচ্ছিল ‘ধুতি ক্যানসার’। আসলে শাড়ি হোক বা ধুতি, ক্যানসারের কারণটা পোশাক নয়, পোশাক পরার ধরন। তাহলে বুঝিয়ে বলা যাক। যদি শাড়ি খুব আঁটোসাঁটোভাবে পরা হয়, বা ধুতি কষে বাঁধা হয় তাহলে কিন্তু ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। অনেকেই শাড়ি পরার সময় কষে সায়ার দড়ি বাঁধেন বা খুব টাইট ইলাস্টিক দেওয়া পেটিকোট পরেন। সঙ্গে আঁটোসাঁটো ব্লাউজ এবং শাড়িও একেবারে আঁটসাঁট করে পরেন। যদি দীর্ঘসময় এমন আঁটোসাঁটো পোশাক পরে কেউ থাকেন তাহলে ত্বকে প্রদাহ শুরু হতে পারে। আর সেখান থেকেই হতে পারে ক্যানসার। অর্থাৎ কেবল শাড়িই নয়, যে কোনও পোশাকই দীর্ঘদিন ধরে আঁটোভাবে পরলে তা ডেকে আনতে পারে মারণরোগকে।
কী কী উপসর্গ দেখা যায়?
১) কোমর যদি লাল হয়ে থাকে অথবা ক্রমাগত যদি চুলকোতে থাকে।
২) কোমরের কাছে যদি কোনও মাংসপিণ্ড তৈরি হয়।
কেন হয় শাড়ি ক্যানসার?
বেঙ্গালুরুর স্পর্ষ হাসপাতালের সার্জিকাল অনকোলজিস্ট ডা. নটরাজ নাইডু বলছেন, এই শাড়ি ক্যানসারটিকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হয় স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা অথবা এসসিসি। কোমরের ভাঁজে দীর্ঘ সময় ধরে কোনও দড়ি অথবা গার্ডার জাতীয় কিছু চেপে বসে থাকলে সেখানে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। টাইট প্যান্ট, ধুতি, লুঙ্গি, পাজামা অথবা পেটিকোট পরলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জায়গায় টাইট করে কিছু বেঁধে রাখার ফলে সেখানকার কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ক্যানসারের বীজ বোনা শুরু হতে পারে।
স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা হাত, পা, মুখ, হাতের কনুই, পায়ের পাতা, ঠোঁট, গলা ও পিঠে হতে পারে। লালচে-খয়েরি দাগ দেখা যায় ত্বকে। খসখসে হয়ে যায় চামড়া। অনেক সময় র্যাশ, চুলকানি দেখা দেয়। আঁশের মতো শুষ্ক হয়ে যায়। সোরিয়াসিসের মতো ক্ষত তৈরি হয়। মোজ় সার্জারি, লেজার সার্জারি, ইলেকট্রোডেসিকেশন পদ্ধতিতে এই ধরনের স্কিন ক্যানসারের চিকিতসা করা হয়।
২০১১ সালে ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছিল ‘শাড়ি ক্যানসার’-এর কথা। এমন দুটি কেস দেখা গিয়েছিল যেখানে রোগীরা এই ধরনের ক্যানসারে ভুগেছিলেন। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে এই ধরনের ক্যানসার দেখা গেলেও তা বিরলই।
শাড়ি ক্যানসার থেকে বাঁচার উপায় কী?
রেনবো চিলড্রেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ক্রিভেনি অরুণ আক্কিরাজু বলছেন, যদি দীর্ঘক্ষণ শাড়ি পরতে হয় সেক্ষেত্রে পেটিকোটের দড়ি আলগা করে রাখতে হবে। যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর দড়ি, আলগা করে দিতে হবে।
কোমরের দিকে যদি কোনও আঁচিল অথবা ঘা হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই সমস্ত ঘা পরবর্তীকালে টিউমার অথবা ক্যানসারের পরিবর্তিত হয়ে যায়।
শরীরের যে সমস্ত অঙ্গ সর্বক্ষণ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে রয়েছে, সেখানে যদি অস্বাভাবিক কোনও ক্ষত অথবা ফুসকুড়ি দেখা যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে।
খেয়াল রাখতে হবে কোমরের ত্বকের কোনও অংশেই রংবদল হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মহিলারা এদিকে খেয়াল রাখেন না। যখন খেয়াল পড়ে, ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে যায়।