আইএসএলের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে নতুন দরপত্রে একটিও বিড এল না। সুপ্রিম কোর্ট-মনোনীত কমিটি বলছে, অতিরিক্ত লোভ এবং কঠোর শর্ত রেখেছে AIFF।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 19 November 2025 22:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় লিগ আইএসএল (Indian Super League) অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। অক্টোবর মাসে এআইএফএফ (AIFF) লিগের বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার জন্য যে নতুন দরপত্র ডেকেছিল—সেটিতে একটিও বিড আসেনি। কেন? সুপ্রিম কোর্ট-মনোনীত প্যানেলের রিপোর্ট বলছে—ফেডারেশন ফের ‘অতিরিক্ত লোভ’ দেখিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এল. নাগেশ্বর রাও-এর নেতৃত্বাধীন কমিটি তেমনটাই জানিয়েছে স্পষ্ট করে।
কোথায় বড় সমস্যা তৈরি করল AIFF?
রাও কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে কয়েকটি বড় কারণ—
অতিরিক্ত মিনিমাম গ্যারান্টি (MG) পেমেন্ট, যা সম্ভাব্য বিডারদের বেশিরভাগকেই পিছিয়ে দিয়েছে। কমিটি বলেছে, মিনিমাম গ্যারান্টির অঙ্ক না কমালে বা পুনর্গঠন না হলে কোনও বিনিয়োগকারী আসবে না।
গভর্নিং কাউন্সিলে বাণিজ্যিক অংশীদারের অবহেলা: প্রস্তাবে ৬ সদস্যের কাউন্সিলে বাণিজ্যিক অংশীদারের জন্য মাত্র একটি আসন রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্যানেলের মতে, বিশাল আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে কেউই এগোবে না।
ISL-এর বর্তমান বাণিজ্যিক চুক্তি FSDL-এর সঙ্গে ২০১০ সাল থেকে চলছে এবং ৮ ডিসেম্বরেই তা শেষ হচ্ছে। নতুন দরপত্রে বিড না আসায় লিগ কার্যত ঝুলে গেছে। ইতিমধ্যেই আর্থিক অনিশ্চয়তার জেরে কিছু ক্লাব ফুটবল অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছে।
রাও কমিটির সুপারিশ কী কী?
AIFF যেন তার রেগুলেটরি ভূমিকা বজায় রাখে।
কিন্তু দৈনন্দিন বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক পরিচালনার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বাণিজ্যিক অংশীদারের হাতে দিতে হবে।
অংশীদারকে গভর্নিং কাউন্সিলে সমান প্রতিনিধিত্ব দিতে হবে।
আর্থিক অঙ্ক বাস্তবসম্মত করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখায়।
ভারতীয় ফুটবলে যেখানে টাকার অভাব নতুন কিছু নয়, সেখানে AIFF নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টায় এমন কাঠামো তৈরি করেছে যা সম্ভাব্য অংশীদারদের চোখে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে প্যানেল। রাও কমিশনের রিপোর্ট স্পষ্ট—ফেডারেশনকে মানসিকতা বদলাতে হবে, না হলে আইএসএল নতুন করে গতি পাওয়াই কঠিন।