
শেষ আপডেট: 20 May 2023 09:26
প্রতি বছরই গরম আগের বছরের তীব্রতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। এইরকম জ্বালা ধরানো গরমে একটু আরাম পেতে কেমন ধরনের জামাকাপড় পরতে পারি যেটা দেখতেও সুন্দর আবার আরামদায়কও সেটা খুঁজে দেখতে দ্য ওয়াল পৌঁছে গেছিল দক্ষিণাপণ শপিং কমপ্লেক্সে, যেখানে চলতি ফ্যাশনের সমস্ত কিছু পাওয়া যায় নাগালের মধ্যে (Beautiful summer dress collection)। এই সময়ের ফ্যাশন ট্রেন্ডকে মাথায় রেখে আর গরমের প্রকোপ থেকে বাঁচতে কটনের নানা ধরনের ড্রেস কিন্তু এখন বেশ জনপ্রিয়।
খুব বেশি না ঘুরে আপনারা চলে যেতে পারেন দক্ষিণাপণের ভিতরে অবস্থিত ‘রাই’ এবং ‘খাদি সিল্ক এম্পোরিয়ামে’। এত সুন্দর সামার ফ্রেন্ডলি ড্রেসের সম্ভার খুব কম জায়গাতেই পাবেন। এই দুই জায়গাতেই গরমে পরার পোশাক (summer dress) পেয়ে যাবেন সাধ্যের মধ্যেই।
এই পোশাকের বিশেষত্ব কী আর কেনই বা এখন এত জনপ্রিয় এই সামার ড্রেস? আগে জেনে নেওয়া যাক কী কী ধরনের ড্রেস রয়েছে যেটা গরমে পরার জন্য আরামদায়ক আবার একইসঙ্গে নজরকাড়া।
আজরাখ মেটেরিয়ালের লং ড্রেস
মূলত পাকিস্তানের সিন্ধ এলাকায় এই আজরাখ প্রিন্টের উৎপত্তি। বিভিন্ন রং দিয়ে ব্লক প্রিন্টের আকারে তৈরি এই কাপড় এতটাই আরামদায়ক যে সেই কাপড়ের শাড়ি, কুর্তি, ড্রেস সমস্ত কিছুই পাওয়া যায় কলকাতাতে। মোলায়েম কাপড় সঙ্গে ব্লক প্রিন্টের কারুকার্য দেখতেও যেমন সুন্দর পরেও আরাম। হাফ স্লিভস, ফুল স্লিভস এমনকি শর্ট, লং নানান ডিজাইনেই পেয়ে যাবেন আজরাখ কাপড়ের ড্রেসগুলো।


কলমকারির উপর কুইল্টিং করা লং ড্রেস
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে উৎপত্তি এই ধরনের কাপড়ের। কলমকারির উপর যে কোনও প্রিন্টই করা হয় প্রাকৃতিক রঙের মাধ্যমে। সুতির আরামদায়ক এই কাপড়ের উপর তৈরি ড্রেস এখন খুবই জনপ্রিয়। দোকানে, শপিং মলে, এমনকি যে কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে এই ধরনের ড্রেস। কিন্তু দক্ষিণাপণে গেলে আপনি পেয়ে যাবেন কলমকারির উপর কাঁথা স্টিচের কাজ করা বিভিন্ন দামের বিভিন্ন রকমের ড্রেস। অফিস পার্টি হোক বা হালকা নিমন্ত্রণ বাড়ি সবজায়গাতেই কিন্তু এখন দেখতে পাবেন কলমকারির ছোঁয়া।


কাশিশ মেটেরিয়ালের লং ড্রেস
পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেটকে অক্সিডাইজিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করে মিনারেল ডাই করে তৈরি করা হয় এই কাশিশ মেটারিয়াল। কাশিশ প্রিন্ট মেকিং-এ এমন এক ধরনের রঞ্জক ও প্রতিরোধক ব্যবহার করা হয় যা ধূসর, খাকি এবং বাদামি রংগুলিকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলে। ফলে কাশিশ মেটেরিয়ালের ড্রেসগুলির রং সাধারণত সলিড কালারেই হয়। মাছের প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্টের কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের ড্রেসগুলি বানানো হয়ে থাকে।


ইক্কতের লং ড্রেস
ইক্কত হল একধরনের রঙ করার কৌশল যার উৎপত্তি ভারতের ওড়িশায়। এটি ‘ওড়িশার বাঁন্ধা’ নামেও পরিচিত। ২০০৭ সাল থেকে ওড়িশার এই ইক্কত কাপড় ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। বুননের আগে কাপড়ে নকশা তৈরি করার জন্য ওয়ার্প এবং ওয়েফ সুতো দিয়ে টাই-ডাইংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয় ইক্কতের উপর নানা ধরনের প্রিন্ট। ড্রেসের ক্ষেত্রে এই মেটেরিয়াল খুবই জনপ্রিয়। উজ্জ্বল রঙের মধ্যে ত্রিকোণ আকারের কারুকার্য চোখে লাগার মতই।


গুরজারি মেটেরিয়ালের লং ড্রেস
কটনেরই অন্য এক ধরন হল গুরজারি। হাতে তৈরি সুতোয় বোনা এই ধরনের কাপড়ের প্রধান আকর্ষণ হল আরাম। আরামের সঙ্গে আপস না করে নতুন ডিজাইনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় এই ধরনের মেটেরিয়ালের ড্রেসগুলি।


ইন্ডিগো প্রিন্টের লং ড্রেস
ইন্ডিগো গাছের পাতার নির্যাস থেকে তৈরি হয় নীল রঙের এই অদ্ভুত সুন্দর রঙটি। এখন কলকাতা তথা গোটা ভারতবর্ষের মধ্যেই এই প্রিন্টের জামাকাপড়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ছোট ছোট ব্লক প্রিন্টের আকারে হোক বা বড় বড় হাতে আঁকা কোনও কারুকার্য সবটাই যেন ফুটে উঠে এই ধরনের কাপড়ে। এই ইন্ডিগো গাছের চাষ হয় মূলত গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলগুলিতে। নীলের উপর সাদা রঙটাই বেশি প্রাধান্য পায় এই ইন্ডিগো কাপড়ের ড্রেসের ক্ষেত্রে। এই প্রিন্টের ড্রেসগুলো একটা পার্টেরও হতে পারে বা টু-পার্টেরও হতে পারে।


খাদির কাপড়ের লং ড্রেস
হাতে কাটা এবং হাতে বোনা এই সুতির কাপড়ের চল বহু আগে থেকেই। গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে চরকা ব্যবহার করে তৈরি করা হয় এই খাদির কাপড়। দক্ষিণাপণের খাদি সিল্ক এম্পোরিয়ামের খাদি কাপড়ের ড্রেসের কালেকশন দেখলে মন চাইবেই দুটো তিনটে চটপট কিনে ফেলতে। এক রঙের মধ্যে নতুনত্বের বিভিন্ন টাচ, কাঁথা স্টিচের কারুকার্য আবার হালকা প্রাকৃতিক রঙের ডাইয়ের কাজও দেখা যায়।


ফ্যাশনের ঝড় এবার টলিউডেও, ছবি নিয়ে আড্ডায় কী কী বললেন 'ফাটাফাটি' ডিজাইনার অভিষেক দত্ত