বলিউডে একটা কথা খুব চালু—যখন সব দিক থেকে ব্যর্থতা ঘিরে ধরে, তখন বাঁচায় একটাই জঁর: অ্যাকশন। প্রেম, কমেডি, মেলোড্রামা—সব কিছু পিছনের সারিতে ফেলে আবারও প্রমাণ হল যে, নায়কের ‘কামব্যাক’ যদি হয়, তবে সেটা হবে ঘুষি, গুলি আর বারুদঘেরা এক দুর্ধর্ষ রূপে।

রণবীর সিং
শেষ আপডেট: 13 July 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে একটা কথা খুব চালু—যখন সব দিক থেকে ব্যর্থতা ঘিরে ধরে, তখন বাঁচায় একটাই জঁর: অ্যাকশন। প্রেম, কমেডি, মেলোড্রামা—সব কিছু পিছনের সারিতে ফেলে আবারও প্রমাণ হল যে, নায়কের ‘কামব্যাক’ যদি হয়, তবে সেটা হবে ঘুষি, গুলি আর বারুদঘেরা এক দুর্ধর্ষ রূপে। সেই পথ খুঁজে পেলেন রণবীর সিং!
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম ঝলক। চোখেমুখে রক্ত, সিগারেট ঠোঁটে, কাঁধে লম্বা চুল, রক্তে রাঙা হাত, রণবীর যেন একদম ভিন্ন মানুষ। মনে পড়ে ‘অ্যানিম্যাল’-এর রণবীর, ‘পাঠান’-এর শাহরুখ কিংবা ‘ওয়ান্টেড’-এর সলমনকে।
গত কয়েক বছরে ‘৮৩’, ‘জয়েশভাই জোরদার’ কিংবা ‘সার্কাস’-এর মতো ছবিগুলোর ফ্লপ পারফর্ম্যান্সের পর রণবীরের কেরিয়ারে কিছুটা ভাঁটার নেমেছিল। আর তাই হয়তো এবার ভরসা অ্যাকশনের উপর। বলি ইতিহাস বলে, এই জঁর বলিউডে বহু নায়কের মরণবাঁচন দিয়েছে।
সলমন খান, যিনি এক সময় একের পর এক ফ্লপ ছবিতে নিজের নাম খোদাই করেছিলেন—‘মারিগোল্ড’, ‘গড তুসি গ্রেট হো’, ‘যুবরাজ’-এর মতো ছবির পর ‘ওয়ান্টেড’ যেন ছিল এক ঝড়ের মতো কামব্যাক। এরপর একের পর হিট—‘দাবাং’, ‘রেডি’, ‘বডিগার্ড’, ‘এক থা টাইগার’—সবই অ্যাকশনভিত্তিক। আর শাহরুখের তো ‘রোম্যান্সের বাদশা’ তকমা সরিয়েই নতুন জীবন দিয়েছে ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’।
রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিম্যাল’, অমিতাভ বচ্চনের ‘শাহেনশাহ’ বা সানি দেওলের ‘গদর ২’—প্রমাণ করেছে যে অ্যাকশন হল সেই জঁর, যা বক্স অফিসে এক ধাক্কায় ঘুরিয়ে দিতে পারে ভাগ্যরথ।
কিন্তু কেন এই অগাধ আস্থা অ্যাকশনে?২০২৫ সালের এক সমীক্ষা বলছে, ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে অ্যাকশন ও অ্যাডভেঞ্চার হল সবচেয়ে পছন্দের জঁরের একটি। কারণটা অনেক সহজ—এই ভাষা সবার বোধগম্য। হাসির মতো নয়, যে প্রেক্ষাপটে বদলে যায়। ঘুষি, ধামাকা, প্রতিশোধ—এইসব আবেগ সর্বজনগ্রাহ্য। ভারতীয় সমাজে যেখানে রোজকার জীবন লড়াইয়ে ভরা, সেখানে পর্দার হিরো যখন একা হাতে বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, তা নিছক বিনোদন নয়—একটা রিলিজ, এক রকম প্রতিশোধ!
বলিউডের অ্যাকশন শুধু মারপিট নয়, তাতে মিশে থাকে পরিবার, আবেগ, আত্মত্যাগ—একেবারে ‘মশলা’ মুভির প্যাকেজ। শাহিদ কাপুরের ‘সাইলেন্ট হো যা, নাহি তো ভায়োলেন্ট হো জাউঙ্গা’, শাহরুখের ‘বেটে কো হাত লাগানে সে পহলে...’ কিংবা সলমনের ‘এক বার জো ম্যায় কমিটমেন্ট...’—এই সব সংলাপ শুধু সংলাপ নয়, পপ কালচারের অংশ হয়ে গেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই জঁর তৈরি করে নায়কত্বের মিথ। বলিউডে হিরো মানেই অলঙ্ঘ্য, দুর্দান্ত, জয়ী। তাই সলমন যখন ‘টিউবলাইট’-এ এক নির্ভরশীল, দুর্বল চরিত্রে এলেন, দর্শক তাঁকে মেনে নিতে পারেননি। হিরোদের দুর্বল দেখানোর জায়গা বলিউডে অনন্ত নেই। আর এই অ্যাকশন রিভাইভাল শুধু পুরুষদের ক্ষেত্রেই নয়। রানি মুখার্জীর ‘মর্দানি’ সিরিজ তার বড় প্রমাণ। প্রেমিক রানি থেকে এক ফাইটিং পুলিশ অফিসার—এই রূপান্তর তাঁকে একটা নতুন পরিচয় দিয়েছে।
এবার সেই লড়াইয়ে নামছেন রণবীর। তাও আদিত্য ধরের নেতৃত্বে, যাঁর ‘উরি’ ভারতের জাতীয়তাবাদী অ্যাকশন জঁরের এক মাইলফলক ছিল, ‘ধুরন্ধর’-এ একগুচ্ছ শক্তিশালী অভিনেতার ভিড়ে রণবীরই থাকবেন কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, বলিউডে একটা জিনিস অমোঘ—যখন সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, অ্যাকশনই খুলে দেয় বন্ধ দরজা।