
শেষ আপডেট: 22 October 2021 16:49
টিআরপি তলানিতে। চার-এ নেমে গেছে টিআরপি। এত বড় বড় তাবড় অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকা সত্ত্বেও ধরে রাখা গেল না 'দেশের মাটি' সিরিয়ালকে। স্টার জলসায় সন্ধে সাড়ে ছটায় 'খুকুমণি হোমডেলিভারি' আসন্ন সিরিয়ালের প্রোমো আসতেই বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে 'দেশের মাটি' সিরিয়ালের।
অন্যদিকে সিরিয়াল বন্ধের খবর শুনে রাজা-মাম্পি জুটির ফ্যানেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁদের কাতর অনুরোধ সিরিয়াল চলুক। কিন্ত চিত্রনাট্যকার, পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় কোনও সুখবর দিতে পারেননি। আরেক পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলে দিয়েছেন "চ্যানেল বলেছে 'দেশের মাটি' শেষ করতেই হবে অক্টোবর মাসের মধ্যে"।
রাজা ওরফে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাম্পি রূকমা রায় দুজনেরই মনখারাপ তাঁদের বিপুল চাহিদার জুটির এত কমদিন মেয়াদ হল বলে।
অন্যদিকে 'নোয়া' শ্রুতি দাস মনখারাপের সঙ্গে তাঁর, কিয়ান আর এস পি সাহেবের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন 'শেষের কবিতা'। সেখানেও বিদায়ের সুর।
এস পি সাহেব চরিত্রে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এই মেগাতে। তাঁর দাপটে মুগ্ধ হয় দর্শক। তিনি নিজেও বাস্তবে একজন পুলিশ অফিসার, যার কাছে এই সিরিয়াল ছিল বড় প্রাপ্তি। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ই পুলিশ অফিসারের মধ্যে এমন দাপুটে অভিনেতাকে খুঁজে আনেন।
কিন্তু ছন্দপতন ঘটল সিরিয়ালের টিআরপি পতনে। কেন বন্ধ হচ্ছে সিরিয়াল? যথাযথ কারণ এখনও পরিস্কার নয়। চ্যানেলের নির্দেশের ওপর কোনও কথা হয়না।
দুই প্রোডাকশন গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব কি কারণ! সেটাও হয়তো কারণ নয়। টিআরপি উঠছেনা এক মাস যাবৎ সিরিয়ালের।
তবে ইদানীংকালে 'দেশের মাটি' দেখার প্রতি দর্শকের এসে গেছিল বিতৃষ্ণা। কারণ একঘেয়ে দৃশ্যায়ন এবং দিশাহীন চিত্রনাট্য। নোয়া-কিয়ান ও রাজা-মাম্পির বিয়ে ঘিরে তুঙ্গে উঠেছিল সিরিয়ালের টিআরপি। কিন্তু নিমেষেই সব যেন নেমে গেল তলানিতে।
সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে সেই দিন থেকে যেদিন নোয়া প্লাস্টিকের পলকা মন্দিরের খাঁড়া নিয়ে শিবু দাসকে খুন করার চেষ্টা চালায়। রাজা-মাম্পির বিয়ের সময় যেভাবে সিরিয়ালটি জনপ্রিয় হয়, সেই জনপ্রিয়তা নিমেষে কমে যায় 'খাঁড়া' কাণ্ডে।
দিশাহীন গল্পও একটা বড় কারণ। যখন সংবাদমাধ্যমে আফগানিস্তান-কাবুল বড় খবর হয়ে ওঠে, তখন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় 'দেশের মাটি'তেও এক বোনের চরিত্র আনেন এই বাড়িতে, যার ইতিহাস 'কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ' এর মতো। কিন্তু সেই ঘটনার ক'টি বৈঠকখানা পর্ব দেখিয়েই বোনকে আর আনেন না সিরিয়ালে লীনা দেবী। কেনই বা এই ঘটনা আনা হল আজও ধন্দে দর্শক! অন্যদিকে কিয়ানের পিতৃপরিচয় কিছুটা ধামাচাপা দিতেই শেষ করা হল। নীলপাখি চরিত্রটিও সঠিক রূপ পেলনা।
একই দৃশ্য পুরো পর্ব জুড়ে চলায় বীতশ্রদ্ধ হচ্ছিল দর্শক। এছাড়াও রোজই সিরিয়ালে বাজছিল বৌরানির লিপে 'ও আমার দেশের মাটি' এবং রাজার লিপে 'লাল ফিতে সাদা মোজা' আর 'যখন সময় থমকে দাঁড়ায়'। বাড়িতে জলসা হলেই একই গান প্রয়োগ যেন চূড়ান্ত একঘেয়েমি তৈরি করে সিরিয়ালটিতে।
তবু সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজা-মাম্পির ভক্ত সংখ্যা কম নয়। রয়েছে 'রাম্পি' ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম গ্রুপ। সেইসব সদস্যরাও এই জুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলনা!
এক ঝাঁক তাবড় অভিনেতা অভিনেত্রী কি দিকভ্রষ্ট গল্পের বলি হলেন 'দেশের মাটি'তে এসে? অশোক কুমার, অনসূয়া মজুমদার, ঋতা দত্ত চক্রবর্তী, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, শঙ্কর চক্রবর্তীর মতো দাপুটে শিল্পীরা হাল ধরতে পারলেননা দুর্বল চিত্রনাট্যের গলদে।
অথচ সিরিয়ালটি পুজো দেখিয়ে শুরু কিন্তু খুব সুন্দর হয়েছিল। টানটান চিত্রনাট্য আর পারিবারিক গল্পের টানে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল স্বরূপনগরের গল্প। কিন্তু মাত্র এক বছরেই বিদায়ঘণ্টা বাজল।
শুরুর দিকে 'দেশের মাটি' সিরিয়ালে ইতিবাচক বার্তা ছিল ভীষণ।
'কেন ভূতের বোঝা বহিস্ পিছে
ভূতের বেগার খেটে মরিস্ মিছে
দেখ ওই সুধাসিন্ধু উছলিছে
পূর্ণ ইন্দু পরকাশে
ভূতের বোঝা ফেলে ঘরের ছেলে,
আয় চলে আয় আমার পাশে।'
এই বার্তা যেন পরতে পরতে জড়িয়ে থাকত সিরিয়ালের সংলাপে...
টি আর পি কমা নিয়ে টেলি দুনিয়ার কিছু মানুষের মত- দর্শকরা মোবাইলে, ল্যাপটপে, ইউটিউবে, ওটিটি, ফেসবুক ক্লিপিং-এ সিরিয়াল দেখছে বলেই টেলিভিশনে টিআরপি কমে যাচ্ছে, যার ফলে বহু সিরিয়ালের এই অবস্থা হচ্ছে। ঘটনা যাই হোক, স্বরূপনগরের একান্নবর্তী পরিবারের মিলনমেলা ভাঙবে এই মাসেই।