
শেষ আপডেট: 24 August 2022 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'লক্ষ্মী ছেলে' (Lokkhi Chele) সনাতন হিন্দু ধর্মের বিরোধী, এমন অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কটের (boycott) ডাক দিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। এর আগে 'ধর্মযুদ্ধ', 'বিসমিল্লা'র মতো ছবিগুলোও হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ করছে, এমন অভিযোগ তুলে বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। যার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে বক্স অফিসেও। দেখা গেছে, ছবিদুটি তেমন সফল হয়নি। এবার কি 'লক্ষ্মী ছেলে'র ভাগ্যেও তেমনই কিছু লেখা ছিল! সেই আতঙ্কে শেষ অবধি রামকৃষ্ণ মিশনের (Ramakrishna Mission) শরণাপন্ন হলেন ছবির প্রযোজক-পরিচালক জুটি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shiboprosad Mukherjee) ও কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় (Kaushik Ganguly)।
বর্তমানে জোরকদমে চলছে 'লক্ষ্মী ছেলে'র প্রচার। পথনাটিকা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) ভিডিও পোস্ট- বাদ যাচ্ছে না কিছুই। বুধবার সকালে তেমনই একটি প্রচারমূলক ভিডিও পোস্ট করেছেন শিবপ্রসাদ। ছবির অন্যতম প্রযোজক এবং পরিচালক যে রামকৃষ্ণ মিশনের একসময়ের কৃতি ছাত্র, সেকথাই ভিডিওর শুরুতে লেখা রয়েছে। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বরানগর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র এবং কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় যে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের কৃতি পড়ুয়া, তা টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই জানেন। আবার বহু লোক জানেনও না। এদিনের ভিডিওতে সেটাই সবাইকে জানানোর ব্যবস্থা করলেন নির্মাতারা।
কিন্তু হঠাৎ ছবির প্রচারে রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বারস্থ হতে হল কেন? নিন্দকদের ব্যাখ্যা, 'লক্ষ্মী ছেলের পরিচালক এবং অন্যতম প্রযোজক যে রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র হয়ে হিন্দুধর্মের অবমাননা করবেন না, সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে এই ভিডিওতে।' এরপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রামকৃষ্ণ মিশন কি তবে হিন্দুধর্মের ধ্বজাধারী? নাহলে হঠাৎ ছবির মাধ্যমে হিন্দুধর্মের অবমাননার প্রশ্ন ওঠায় মিশনকে কেন প্রচারে টানা হচ্ছে?
শহরে অভিনব পথনাটিকা, নাচে-গানে তারুণ্যের গল্প শোনাল ‘লক্ষ্মী ছেলে’র দল
তবে শুধু নিজেদের শিক্ষাগত পরিচয় জানিয়েই থামেননি ছবির নির্মাতারা। দর্শকদের উদ্দেশে এই ভিডিওবার্তার মাধ্যমেই ছবির প্রচার করেছেন গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী সুপর্ণানন্দজী মহারাজ। ক্যামেরার সামনে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'ছবিটি দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছি। আমার মতো আরও যাঁরা ছবিটি দেখবেন, তাঁরাও বাকরুদ্ধ হয়ে যাবেন। গর্ব হয় যে, কৌশিক আমার ছাত্র। ও যে আমায় স্পেশ্যাল স্ক্রিনিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছবিটি দেখাল, তা আমার সৌভাগ্য। এই ছবিটির বিশ্বব্যাপী প্রচার হোক।' এরপরই দেশবিদেশে ছড়িয়ে থাকা রামকৃষ্ণ মিশনের অসংখ্য পড়ুয়াকে এই ছবিটি দেখার জন্য অনুরোধ জানান মহারাজ।
নেটিজেনরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, ছবিটির ট্রেলার দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই গল্পে কুসংস্কার বিরোধী এবং ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হচ্ছে। সেখানে কেন রামকৃষ্ণ মিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ করে বড়াই করা হচ্ছে! এমনকি মহারাজকেও টেনে নামানো হল ছবির প্রচারে। তাহলে কি ছবির বিষয়বস্তুর উপরে ভরসা নেই নির্মাতাদের? ধর্মনিরপেক্ষতার হয়ে ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নেমে শেষে সেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেরই শরণাপন্ন হতে হলো শিবপ্রসাদ-কৌশিককে।