টলিপাড়ায় নির্বাচনের আবহ। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরাম’-এর অন্দরে ভোটের দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে।

শেষ আপডেট: 13 January 2026 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিপাড়ায় নির্বাচনের আবহ। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরাম’-এর অন্দরে ভোটের দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে। সংগঠনের ঘোষণামাফিক, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বার্ষিক সাধারণ সভার পর বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগেই ফোরামের তরফে একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচি ও কাঠামোগত বদলের কথা প্রকাশ্যে এল, যা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়ছে শিল্পীমহলে।
এ বছরের নির্বাচন একাধিক দিক থেকে আলাদা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এ বার সমস্ত সদস্যের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অবাধ প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে। ন্যূনতম সাত বছরের সদস্যপদ থাকলেই যে কোনও সদস্য প্রার্থী হতে পারবেন। তবে নেতৃত্বের শীর্ষস্তরে বড় কোনও চমক নেই বলেই ইঙ্গিত। সভাপতি ও কার্যসভাপতি পদে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা কম, এই দুই পদে যথাক্রমে রঞ্জিত মল্লিক ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ই বহাল থাকছেন। অভিনেতা জিৎ এ বছরের নির্বাচনে প্রার্থী বা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হবেন কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে।
নির্বাচনের পাশাপাশি ফোরামের নজর এ বার সদস্য-অভিনেতাদের দীর্ঘ দিনের অভাব-অভিযোগের দিকে। কাজের অভাব, যোগাযোগের ঘাটতি, তথ্যের অস্পষ্টতা— এই সব সমস্যার বাস্তব সমাধান খুঁজতেই নতুন পরিকল্পনার পথে হাঁটছে সংগঠন। ফোরামের ওয়েবসাইটকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে, যেখানে যোগ হচ্ছে একাধিক কার্যকর বিভাগ। ‘মেম্বার্স কর্নার’-এ মাত্র পাঁচশো টাকার বিনিময়ে সদস্যরা নিজেদের জীবনীপঞ্জি বা পোর্টফোলিও তৈরি করে রাখতে পারবেন, যা তাঁদের পরিচিতি ও পেশাগত দৃশ্যমানতা বাড়াতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে, কাজের খোঁজে থাকা শিল্পীদের জন্য থাকছে ‘কাস্টিং কর্নার’। এখানে কোনও অর্থ ছাড়াই নিজের তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন সদস্যরা। ইতিমধ্যেই প্রায় ২২০০টি সংস্থা ও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে ফোরাম, যাঁরা কর্মহীন শিল্পীদের কাজের সুযোগ করে দেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি নতুন ধারণা— ‘ই-শুটিং ডায়েরি’। প্রতিদিনের কাজের বিবরণ সদস্যরা নিজেরাই সেখানে নথিভুক্ত করতে পারবেন, কোনও পদস্থ আধিকারিকের স্বাক্ষরের প্রয়োজন পড়বে না। শুধু তাই নয়, ফোরামের দপ্তরে না এসেও যে কোনও জটিলতা, অভিযোগ বা সমস্যার কথা সরাসরি সংগঠনকে জানানো যাবে। এই সমস্ত পরিষেবা যাতে সদস্যদের হাতের মুঠোয় থাকে, সে জন্য ‘মেম্বার্স কর্নার’ ও ‘কাস্টিং কর্নার’— দু’টিই অ্যাপ আকারে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পেজে পোস্ট করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে সকাল থেকে শুরু হবে বার্ষিক সাধারণ সভা, দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। তার আগে মনোনয়ন জমা, প্রত্যাহার, প্রার্থী তালিকা প্রকাশ থেকে শুরু করে ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ— প্রতিটি ধাপের নির্দিষ্ট সময়সূচি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের জন্য রয়েছে কড়া আচরণবিধি, প্রচারের সীমা, এবং শৃঙ্খলাবিধির স্পষ্ট নির্দেশ। সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতেই এই কঠোর কাঠামো।
সব প্রশ্নের কেন্দ্রে যদিও একটাই বিষয়— এই নতুন পরিকল্পনা, ডিজিটাল পরিকাঠামো আর নির্বাচনী আশ্বাস কি সত্যিই কর্মহীন অভিনেতাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে? নাকি ভোটের উত্তাপ মিটে গেলে সবই থেকে যাবে কাগজে-কলমে? ৮ ফেব্রুয়ারির পরই কি মিলবে সেই উত্তর, না কি আরও এক দফা অপেক্ষা শিল্পীদের ভাগ্যলিখনে?