বলিউডের প্রেমের জাদুকর করণ জোহর সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও কেন একা? জাতীয় পুরস্কার জয়ের রাতেও কেন পাশে ছিল না কেউ?

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 6 November 2025 19:00
বলিউডের পর্দায় তিনি এক জাদুকর। যাঁর হাতের ছোঁয়ায় প্রেমের রঙে রাঙিয়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়'-এর রোমান্টিক 'রাহুল' হোক বা 'রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি'-র জটিল ভালবাসা। সব গল্পেই করণ জোহর যেন প্রেমের এক নতুন, স্বপ্নময় সংজ্ঞা লিখেছেন। তাঁর ছবিতে নায়ক-নায়িকারা হাতে হাত রেখে প্রতিজ্ঞা করেছে সারাজীবন সঙ্গে থাকার।
কিন্তু পর্দার এই ঝলমলে স্বপ্নের জগৎ পেরিয়ে যখন তিনি বাস্তব জীবনে ফিরে তাকান, তখন সেই চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে তিনি কোটি কোটি মানুষকে প্রেমের গল্প উপহার দিয়েছেন, সেই তাঁর নিজের জীবনে প্রেম যেন কেবল ক্যামেরার ওপাশেই রয়ে গেল। সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও, করণের ব্যক্তিগত জীবনে একজন জীবনসঙ্গীর শূন্যতা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
প্রথমবার, মাত্র ২৭ বছর বয়সে, যখন তাঁর ডেবিউ ছবি 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়'-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার হাতে পেলেন, দৃশ্যটা ছিল এক উৎসবের মতো। পাশে ছিলেন বাবা যশ জোহর, চারদিকে ছিল পরিবারের উচ্ছ্বাস। সেই প্রথম সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো কাছের মানুষজন তাঁর চারপাশে ভিড় করেছিল।

আর দ্বিতীয়বার, তাঁর সাম্প্রতিক ছবি 'রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি'-র জন্য যখন একই সম্মান এল, তখন জীবনের ছবিটা পাল্টে গেছে সম্পূর্ণ। সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও, সেই মুহূর্তে তিনি নিজেকে পেলেন সম্পূর্ণ একা। মা অসুস্থতার কারণে পাশে থাকতে পারেননি, সন্তানরা তখনও পুরস্কারের গুরুত্ব বোঝার জন্য খুব ছোট। আর যে বন্ধুরা সবসময়ের সঙ্গী, তাঁরাও তখন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্যস্ত। সেই চরম সাফল্যের মুহূর্তেও একজন জীবনসঙ্গীর শূন্যতা তাঁকে তাড়া করে বেড়িয়েছে, যার কাছে গিয়ে তিনি বলতে পারতেন—"আমি পেরেছি!"

'আনন্দটা কার সঙ্গে ভাগ করব?'
কিন্তু সেই চরম সাফল্যের মুহূর্তের অনুভূতি কেমন ছিল? এক সাক্ষাৎকারে করণ বলেছিলেন, “আপনি আপনার সাফল্যে সবচেয়ে একা। কারণ খারাপ দিনে সময় সবাই আপনার পাশে থাকে। পরিবার, বন্ধু, সন্তান। কিন্তু সাফল্যের সময় আপনি বুঝতেই পারেন না, আনন্দটা কার সঙ্গে ভাগ করবেন।”

যখন পুরস্কার জেতার ফোনটা পেলাম। আমি ভাবছিলাম, "আজ রাতে আমি কার সঙ্গে এই মুহূর্ত উদ্যাপন করব? কার বাড়ি যাব? কার হাত ধরে আনন্দটা প্রকাশ করব? আমার শুধু একটা পিঠ চাপড়ানোর দরকার ছিল, কেউ একজন বলুক, 'দারুণ করেছিস, বন্ধু!' কিন্তু সেই সময় আমার পাশে কেউ ছিল না।"
দিল্লির রাজপথে একা করণ
জাতীয় পুরস্কার নিতে দিল্লি যাওয়ার সেই সফরেও যেন নিঃসঙ্গতা গিলে খেয়েছিল তাঁকে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাকে জিজ্ঞেস করা হল—আপনার প্লাস ওয়ান কে? কিন্তু আমার কাছে এর কোনও উত্তর ছিল না। কারণ আমার কেউ ছিল না। অন্য সবাই তাদের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে এসেছে। আমি একা।”
"ঈশ্বর আমার জন্য কোনও জুটি তৈরি করেননি"
৫৩ বছর বয়সেও করণ জোহর আজও অবিবাহিত। তিনি বলেন, “একটা সময় আমি সত্যিই একজন সঙ্গী চাইতাম। কিন্তু সেটা কখনও ঘটেনি। হয়তো ঈশ্বর আমার জন্য এই জুটি তৈরি করেননি। একলা খাওয়া, একা বসা—এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই একাকীত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই আমি প্রায়ই নিজের ঘরেই খেতে পছন্দ করি।”

প্রেমের গল্প বানালেন, কিন্তু নিজের জন্য নয়
করণ হাসতে হাসতেই বলেন, “আমি তো ভালবাসার সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো বানিয়েছি, কিন্তু নিজের জন্য একটা গল্পও তৈরি করতে পারিনি।”
করণের জীবন যেন তাঁরই বানানো কোনও প্রেমের গল্প। যেখানে সব কিছু আছে, শুধু নেই নিজের ভালবাসার একটা মানুষ। পর্দায় যেভাবে তিনি প্রেমকে জাদুর মতো ফুটিয়ে তোলেন, বাস্তব জীবনে ঠিক ততটাই নিঃসঙ্গ তিনি। তবুও করণ জোহর আছেন, নিজের গল্পে, নিজের সৃষ্টিতে—এক অনন্ত প্রেমিক হয়ে, যিনি অন্যদের প্রেমে রঙ ছড়ান, অথচ নিজের ভালবাসার গল্পটুকু রেখে দেন চুপচাপ, ক্যামেরার ওপারে।