বলিউড মানেই গ্ল্যামার, স্টারডম আর অফুরন্ত লাইমলাইট। কিন্তু কিছু নায়িকা ছিলেন, যাঁরা কেরিয়ারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেও খ্যাতির মোহে আটকে না থেকে বেছে নিয়েছিলেন এক ভিন্ন জীবন—ভালবাসা, পরিবার আর নিজের শর্তে বাঁচার স্বাধীনতাকে

৭ নায়িকা খ্যাতিকে বিদায় জানিয়ে বেছে নেন সাংসারিক জীবন
শেষ আপডেট: 2 July 2025 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড মানেই গ্ল্যামার, স্টারডম আর অফুরন্ত লাইমলাইট। কিন্তু কিছু নায়িকা ছিলেন, যাঁরা কেরিয়ারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেও খ্যাতির মোহে আটকে না থেকে বেছে নিয়েছিলেন এক ভিন্ন জীবন—ভালবাসা, পরিবার আর নিজের শর্তে বাঁচার স্বাধীনতাকে। সাইরা বানু থেকে আসিন—সাত নায়িকা প্রমাণ করে দিয়েছেন, কখনও কখনও আলো থেকে সরে যাওয়াটাও এক স্ট্রিক্ট স্টেটমেন্ট হতে পারে।
সাইরা বানু, যাঁকে এক সময় বলিউডের সবচেয়ে মোহময়ী অভিনেত্রীদের একজন বলা হতো, 'জঙ্গলি', 'পড়োশন', 'সাগিনা'-র মতো হিট ছবিতে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন। কিন্তু মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি যখন জীবনের প্রেম দিলীপ কুমারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন, ধীরে ধীরে নিজেকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরিয়ে নেন। লাইমলাইটের আড়ালেও তিনি ছিলেন কিংবদন্তি।

সাইরা বানু
নারগিস, যাঁর নাম বললেই মনে পড়ে ‘মাদার ইন্ডিয়া’র সেই অমর চরিত্র, বলিউড ইতিহাসে এক আইকনিক নাম। অথচ তিনি ১৯৫৮ সালে, সুনীল দত্তকে বিয়ের পর, খ্যাতির চূড়া থেকে নিজেই সরে আসেন, পরিবার ও সামাজিক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। নায়িকার পরিচয়ের বাইরেও যে একজন সাধারণ নারী থাকা সম্ভব, নারগিস সেটাই দেখিয়েছিলেন।

নারগিস
মীনাক্ষী শেশাদ্রি, ‘ঘায়েল’, ‘দামিনী’, ‘ঘাতক’-এর মতো ব্লকবাস্টারে তাঁর উপস্থিতি আজও মনে রেখেছে দর্শক। সুদক্ষ নৃত্যশিল্পী ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর গ্রাফ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু ১৯৯৫ সালে আমেরিকাবাসী হ্যারিশ ম্যাসোরকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন, সেখানেই পরিবার গড়েন ও সিনেমার জগৎ ছেড়ে দেন।

মীনাক্ষী শেশাদ্রি
‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’তে ঝড় তুলেছিলেন প্রথম ছবিতেই ভাগ্যশ্রী। সলমন খানের বিপরীতে তাঁর সরল চরিত্রটি দর্শকের মনে গেঁথে গিয়েছিল। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই প্রেমিক হিমালয় দাসানিকে বিয়ে করে অভিনয় থেকে সরে আসেন। এক প্রকার নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে ত্যাগ করে বেছে নিয়েছিলেন পারিবারিক জীবন।

‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’তে ঝড় তুলেছিলেন প্রথম ছবিতেই ভাগ্যশ্রী
টুইঙ্কল খান্না, রাজেশ খান্না ও ডিম্পল কাপাডিয়ার কন্যা হিসেবে তাঁর বলিউড অভিষেক হয়েছিল ‘বরসাত’ ছবির মাধ্যমে। যদিও অভিনয়জীবন খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, ২০০১ সালে অক্ষয় কুমারকে বিয়ে করে সিনেমা ছেড়ে দেন। তবে এখানেই থেমে যাননি—একজন সফল লেখিকা হিসেবে তিনি নিজের দ্বিতীয় পরিচয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
নম্রতা শিরোদকর, প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া, যিনি ‘পুকার’, ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দিল ভিল পেয়ার ভেয়ার’-এর মতো ছবিতে দর্শকের মন জয় করেছিলেন, তিনিও হঠাৎ বিদায় নিয়েছিলেন বলিউড থেকে। ২০০৫ সালে ‘ভামসি’-র সহঅভিনেতা ও তেলেগু সুপারস্টার মহেশ বাবুকে বিয়ে করে অভিনয় ছেড়ে সংসারে মন দেন। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোগপতি হিসেবেও পরিচিত।
তেলেগু সুপারস্টার মহেশ বাবুকে বিয়ে করে অভিনয় ছেড়ে সংসারে মন দেন নম্রতা শিরোদকর
সবচেয়ে চমকে দেওয়া সিদ্ধান্তটি হয়তো নিয়েছিলেন আসিন। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী থেকে হিন্দি ছবির ‘গজনি’-তে আমির খানের বিপরীতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সর্বভারতীয় তারকা। ঠিক যখন কেরিয়ার পুরো মাত্রায় উড়ান ধরেছিল, তিনি ২০১৬ সালে মাইক্রোম্যাক্স সিইও রাহুল শর্মাকে বিয়ে করে অভিনয় জগত থেকে বিদায় নেন। এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে মা ও গৃহিণীর ভূমিকাতেই নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন।

সবচেয়ে চমকে দেওয়া সিদ্ধান্তটি হয়তো নিয়েছিলেন আসিন
এই সাত নায়িকার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাফল্যের সংজ্ঞা একমাত্র খ্যাতি বা অর্থে সীমাবদ্ধ নয়। লাইমলাইটে না থেকেও তাঁরা বেছে নিয়েছেন এমন জীবন, যা তাঁদের কাছে অর্থবহ ও শান্তিময়। বলিউডের বাইরে তাঁদের এই সাহসী সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত জয়গানই আসলে সত্যিকারের তারকা হওয়ার প্রতিচ্ছবি। কারণ কখনো কখনো আলো থেকে দূরে গিয়েই মানুষ সবচেয়ে বেশি নিজেকে খুঁজে পায়।