আইসিসি-র আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে—ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানানো খেলার অঙ্গ। পরস্পরের প্রতি সম্মানই স্পিরিট অফ ক্রিকেটের মূল মন্ত্র।

আঘা ও পাইক্রফট
শেষ আপডেট: 15 September 2025 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রচণ্ড রেগে গিয়েছে পাকিস্তান! সূর্যকুমাররা হ্যান্ডশেকের প্রস্তাব ফেরানোয় সলমন আঘা বাহিনীর আঁতে এত জোরে ঘা লেগেছে, যে এবার শুধুমাত্র টিম ইন্ডিয়া নয়, ম্যাচ রেফারিকেও কাঠগড়ায় তুলল তারা। ইস্যু: ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের (Andy Pycroft) নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা। কেন সব দেখেশুনেও চোখে ঠুলি পড়ে থাকলেন তিনি? এটা কি আইনভঙ্গের আওতায় পড়ে না? এই নিয়েই আইসিসির দরবারে হত্যে দিয়েছে পাক শিবির।
ভারত–পাকিস্তান (India vs Pakistan) ম্যাচ মানে যত না ক্রিকেট, তার চাইতে বেশি রাজনীতি, বিতর্ক, আবেগ আর নাটক। এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) সাম্প্রতিক সংঘর্ষও তার ব্যতিক্রম নয়। বাইশ গজে সূর্যকুমার যাদবদের (Suryakumar Yadav) একতরফা জয়ের থেকেও বেশি করে আলোচনায় হ্যান্ডশেক-বিতর্ক (Handshake Row)। যার আঁচ গিয়ে পড়েছে সরাসরি ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের (Andy Pycroft) ঘাড়ে!
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করে। চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) সরাসরি দাবি তোলেন—অ্যান্ডি পাইক্রফটকে অবিলম্বে সরাতে হবে। অভিযোগ, পাইক্রফট নাকি ম্যাচের স্পিরিট (Spirit of Cricket) ও আইসিসি কোড অফ কন্ডাক্ট (ICC Code of Conduct) লঙ্ঘন করেছেন।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে (Dubai International Stadium) ম্যাচের শুরুতেই চমক। জাতীয় সংগীত বাজানোর সময়ে হঠাৎ লাউডস্পিকারে বেজে ওঠে ‘জলেবি বেবি’! এরপর টসে হাত মেলালেন না দুই অধিনায়ক—সূর্যকুমার যাদব ও সলমন আঘা (Salman Ali Agha)। পাকিস্তানের দাবি, হাত না মেলানোর পেছনে ম্যাচ রেফারির পুরোদস্তুর ভূমিকা রয়েছে। অভিযোগ, টসের সময় পাইক্রফট নাকি আঘাকে ভারতীয় অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করার উপদেশ দেন!
ভারতের একতরফা জয়ের পর আরও এক কাণ্ড। সলমন আঘারা সাজঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও পাননি শুভমানদের সঙ্গে হাত মেলানোর সুযোগ। দরজা পর্যন্ত টেনে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পাকিস্তান টিম। প্রতিবাদ জানাতে প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানেই হাজির হননি আঘা। পিসিবির বক্তব্য, ‘আমরা করমর্দনের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ম্যাচ রেফারি নিজেও আচরণবিধি ভেঙেছেন। তাই আমরা আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে পাইক্রফটকে সরানোর দাবি তুলেছি!’
প্রসঙ্গত, আইসিসি-র আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে—ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানানো খেলার অঙ্গ। পরস্পরের প্রতি সম্মানই স্পিরিট অফ ক্রিকেটের মূল মন্ত্র। পাকিস্তানের দাবি, ভারত সেই নিয়ম ভেঙেছে। আর পাইক্রফটের পরামর্শে নাকি এই অপমান আরও প্রকট হয়েছে।
চলতি বিতর্কের জেরে ভারত–পাকিস্তান লড়াইয়ে আগুন আরও উসকে উঠেছে। সামনে যদি সুপার ফোরে (Super 4) ফের মুখোমুখি হয় দুই দল, তাহলে আরও একবার একই কাণ্ড কি দেখা যাবে? নাকি তার আগেই আইসিসি রেফারি বদলাতে বাধ্য হবে? এই প্রশ্নই আপাতত ক্রিকেট মহলে ঘুরপাক খেয়ে চলেছে।