
কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের প্রাক্তন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার
শেষ আপডেট: 31 October 2024 23:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় প্রকাশিত হল আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের রিটেনশন লিস্ট। এই তালিকায় বড়সড় চমক রেখেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তারা দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারকেই রিলিজ করে দিয়েছে। কেকেআর সমর্থকদের যে এটা অবশ্যই একটা বড়সড় ধাক্কা।
এই রিটেনশন তালিকায় কেকেআর ম্যানেজমেন্ট মোট ৬ ক্রিকেটারকে রেখেছে। তাঁরা হলেন রিঙ্কু সিং, বরুণ চক্রবর্তী, সুনীল নারিন, আন্দ্রে রাসেল, হর্ষিত রানা (আনক্যাপড), রমনদীপ সিং (আনক্যাপড)। রাসেল ছাড়া এই তালিকা যে প্রত্যাশিত, তা বলা যেতেই পারে। কারণ কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, রাসেলের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি নিয়ে নাইট ম্য়ানেজমেন্টের সঙ্গে নাকি মতপার্থক্য হচ্ছে। সেকারণে রাসেলকে আপাতত রিলিজ করে দেওয়া হবে। পরে মেগা অকশনের সময় আরটিএম কার্ড ব্যবহার করে আবারও দলে নেওয়া হতে পারে। যাইহোক, শেষপর্যন্ত রাসেলের বিশ্বস্ততার দাম দিল কেকেআর।
কিন্তু, শ্রেয়স আইয়ার? গত ১০ বছরে কেকেআর আইপিএল ট্রফি জয় করতে পারেনি। অবশেষে, ২০২৪ সালে শ্রেয়সের নেতৃত্বেই ট্রফি জিতেছিল কলকাতা। এক্ষেত্রে অনেকেই হয়ত দলের মেন্টর গৌতম গম্ভীরের কথা বলবেন। কিন্তু, মাঠে নেমে তো শ্রেয়সকেই দল চালাতে হয়েছে। সবদিক বিচার করে কেকেআর সমর্থকদের একাংশ দাবি করছেন, শ্রেয়সকে রিলিজ করে আদতেই এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে হাত কামড়াতে হবে।
এবার প্রশ্ন হল, শ্রেয়সের জুতোয় পা গলাবেন কে? ফাফ ডু প্লেসি'র বয়স এমনিতেই ৪০ বছর হয়ে গিয়েছে। বার্ধক্যের কারণে অধিনায়কত্ব তো দূর, মেগা অকশনে কোনও দল তাঁকে নিতে চাইবে কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন শিখর ধাওয়ানও। বেশ কয়েকমাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের 'গব্বর'। এমনকী, গত আইপিএল মরশুমে পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক হিসেবেও খুব একটা বেশি নজর কাড়তে পারেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে কেকেআর তাঁর কাঁধে অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়ার সাহস দেখাবে, তেমনটা কিন্তু মনে হয় না।
এরপর বাকি থাকে ২ জন। প্রথমজন ঋষভ পন্থ। এবং অপরজন কেএল রাহুল। অধিনায়ক হিসেবে ঋষভের পারফরম্য়ান্স একেবারেই নজরকাড়া নয়। ২০২০ সালের পর থেকে দিল্লি ক্যাপিটালসের পারফরম্যান্স গ্রাফ ক্রমশ নিম্নমুখী হয়েছে। শেষ তিন বছর তো দলটা প্লে-অফেও উঠতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে ঋষভকে দলে নিয়ে একটা তো রিস্ক ফ্যাক্টর থেকেই যায়। তবে একটা অ্যাডভান্টেজও রয়েছে। যেহেতু কেকেআর রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং ফিল সল্ট দুজনকেই ছেড়ে দিয়েছে, সেই জায়গায় পন্থ উইকেট কিপিংয়ের পাশাপাশি দলের অধিনায়কত্বও সামলাতে পারবেন।
কিন্তু উইকেট কিপিংয়ের প্রশ্ন যদি ওঠে, তাহলে চেন্নাই সুপার কিংস ঋষভকে দলে পেতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। কারণ ধোনির বয়স হয়েছে। হাঁটুর চোটে গত ২ মরশুম ধরে কাবু। এই পরিস্থিতিতে কোনও ধোনিকে আনক্যাপড ক্রিকেটার হিসেবে চেন্নাই দলে নিলেও, প্রতিটা ম্য়াচে ধোনি খেলবেন কি না, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। বাকি ম্য়াচগুলোয় ঋষভ স্পেশালিস্ট ব্যাটার হিসেবে পারফর্ম করলেও, ধোনির অনুপস্থিতিতে কিপিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন। ফলে কেকেআর ব্রিগেডকে যে কড়া টক্কর দিতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।
আর এই তালিকায় শেষ নামটা হল কেএল রাহুলের। রাহুলকে রিলিজ করেছে লখনউ সুপার জায়ান্ট। এই পরিস্থিতিতে তিনিও মেগা জ্যাকপট হাঁকাতে পারেন। ঋষভের মতো রাহুলও উইকেট কিপিংয়ের পাশাপাশি অধিনায়কত্ব করতে পারবেন। তাঁর নেতৃত্বে লখনউ সুপার জায়ান্ট ২০২২ এবং ২০২৩ মরশুমে প্লে-অফে উঠলেও, এই বছর একেবারে নজরকাড়া পারফরম্য়ান্স করতে পারেনি। এমনকী, খারাপ পারফরম্য়ান্সের কারণে রাহুলের সঙ্গে দলের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার ঝামেলাও হয়েছিল।
রাহুলকে দলে টানতে গেলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। কারণ আরসিবি-ও তাদের অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিকে রিলিজ করেছে। বিরাট যদি বেঙ্গালুরুকে নেতৃত্ব না দেন, তাহলে তাদেরও একজন নতুন অধিনায়কের দরকার পড়বে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাহুলের থেকে বেটার অপশন আরসিবি-র কাছে তো আর কিছু হতে পারে না। ইতিপূর্বে, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত রাহুল বেঙ্গালুরুর জার্সিতে খেলেছেন। তিনি নিজেও ঘর ওয়াপসি করতে চাইবেন। সেক্ষেত্রে কলকাতার কাছে লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে যাবে।