অশান্তি ধামাচাপা নিতে ও নিজের বক্তব্যের সাফাই ঘোষণায় সানা নাটালিয়ার প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশটও পোস্ট করেন। দাবি, তথ্য হিসেবে তিনি যেখান থেকে রেফারেন্স নিয়েছেন, সেটাতেই এই উল্লেখ ছিল। পরে নাকি সেটা বদলে ফেলা হয়েছে।

সানা মীর
শেষ আপডেট: 3 October 2025 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েদের বিশ্বকাপে (Women’s World Cup 2025) পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ (Pakistan vs Bangladesh) ম্যাচে বিতর্ক। ময়দানে নয়, ধারাভাষ্যের প্যানেলে। খেলা চলাকালীন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক সানা মীর (Sana Mir) নাটালিয়া পারভেজের (Natalia Pervaiz) পরিচয় দিতে গিয়ে হঠাৎ বলে বসেন, তিনি কাশ্মীর থেকে এসেছেন। মুহূর্তেই নিজেকে সংশোধন করে ফের জুড়ে দেন—‘আজাদ কাশ্মীর’। আর তাতেই চড়ে রাজনৈতিক পারদ, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড়!
ঘটনার পর আইসিসি (ICC)–র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখনও পর্যন্ত বিশ্বক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও আসরে নেমেছেন খোদ সানা। নিজেই ঝড় থামাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। দেন দীর্ঘ ব্যাখ্যাও। স্পষ্ট জানিয়ে দেন—বিষয় যাই হোক না কেন, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই।
সানার মোদ্দা বক্তব্য, তাঁর মন্তব্যকে একেবারেই বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। তিনি শুধু বোঝাতে চেয়েছিলেন, নাটালিয়ার বেড়ে ওঠা আর ক্রিকেটের পথ কতটা কঠিন ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘একজন খেলোয়াড় কোন অঞ্চলের বাসিন্দা, সেখান থেকে উঠে এসে কেমন লড়াই করে ক্রিকেটে জায়গা করে নিয়েছে—সেটাই তো আমরা ধারাভাষ্যে তুলে ধরি। আজ নাটালিয়া এবং আর দু’জন খেলোয়াড়ের কথা বলেছি। এর মধ্যে রাজনীতি টানার কিছু নেই।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘এটা দুঃখজনক, যে খেলাধুলার মানুষদের এমন অকারণ চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। আমার মন্তব্য ছিল শুধু একটি খেলোয়াড়ের বেড়ে ওঠার গল্প শোনানো, যা ক্রিকেটের পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের প্রতিফলন। এর মধ্যে কারও অনুভূতিতে আঘাত করার মতো কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।’
প্রসঙ্গত, কমেন্ট্রির সময় সানার সোজাসাপ্টা উক্তি ছিল: ‘নাটালিয়া কাশ্মীর থেকে এসেছে... আজাদ কাশ্মীর… ওকে বেশিরভাগ সময় ক্রিকেট খেলতে হলে লাহোর আসতে হয়।’ আর ঠিক এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়ে যায় বিতর্কের ঢেউ। ভারতীয় শিবিরের প্রশ্ন—বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এই ধরনের রাজনৈতিক শব্দ ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য?
যদিও অশান্তি ধামাচাপা নিতে ও নিজের বক্তব্যের সাফাই ঘোষণায় সানা নাটালিয়ার প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশটও পোস্ট করেন। দাবি, তথ্য হিসেবে তিনি যেখান থেকে রেফারেন্স নিয়েছেন, সেটাতেই এই উল্লেখ ছিল। পরে নাকি সেটা বদলে ফেলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিতর্ক কমার বদলে আরও তীব্র হচ্ছে। একদিকে সানার বক্তব্য, অন্যদিকে সমালোচকদের ক্ষোভ। আইসিসি চুপ থাকলেও এখন সবার নজর সেদিকেই। আদৌ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে? নাকি এই অধ্যায়ের এখানেই ইতি? দু-একদিনের মধ্যেই জবাব মিলবে৷