সাল ১৯৫১। মুক্তি পেল নূতন-নাসির খান অভিনীত ছবি 'নাগিনা'। এই নাসির খান ছিলেন দিলীপ কুমারের ছোট ভাই।

নূতন
শেষ আপডেট: 4 June 2025 17:54
বলিউডের স্বর্ণযুগের প্রথম সারির নায়িকা ছিলেন নূতন। পাঁচের দশকে নূতনের ছবি মানেই মননশীল গল্পে, বক্সঅফিস হিট ছবি। মধুবালার লাস্য, নার্গিসের আভিজাত্যের জমানায় নূতন যেন এক শীতল ছায়া দিতেন দর্শকদের। কেরিয়ারের শুরুতে নূতনের জীবনে ঘটেছিল এক অদ্ভুত ঘটনা। তিনিই ছিলেন ছবির হিরোইন অথচ তাঁকেই ঢুকতে দেওয়া হল না ছবি দেখতে। কেন নূতনকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল তাঁর ছবির প্রিমিয়ারে?
সাল ১৯৫১। মুক্তি পেল নূতন-নাসির খান অভিনীত ছবি 'নাগিনা'। এই নাসির খান ছিলেন দিলীপ কুমারের ছোট ভাই।
নূতনের মা শোভনা সমর্থও ছিলেন দাপুটে অভিনেত্রী। ৪ঠা জুন ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন শোভনার বড় মেয়ে নূতন। শোভনার ছোট মেয়েও বিখ্যাত নায়িকা তনুজা। নূতন মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রথম অভিনয় করেছিলেন তাঁর মায়ের পরিচালিত 'হামারি বেটি' ছবিতে। এরপর আসে ১৯৫১ তে নূতনের নায়িকা রূপে ছবি 'নাগিনা'। এটি কঠোর ভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ছবি ছিল। 'A' সার্টিফিকেট পায় ছবিটি। যখন 'নাগিনা' রিলিজ করল তখন নূতনের বয়স মাত্র ১৫। যেহেতু ১৮ পেরোয়নি তাই নিয়ম মাফিক সিনেমাহলের গেটের সামনে দ্বাররক্ষীরা আটকে দিলেন নূতনকে। আঁতকে উঠলেন নূতন! বাকবিতণ্ডা হলেও প্রেক্ষাগৃহে ঢুকতে পারলেন না।

তিনিই ছবির হিরোইন অথচ তাঁর প্রবেশে অনুমতি নেই। নিয়মের কোপ পড়ল ছবির নায়িকার উপরেও। সেদিন হলে বসে নিজের ছবি নিজেই দেখতে পেলেন না নূতন। এমন ঘটনা বলিউড ইতিহাসে কোনও অভিনেত্রীর সঙ্গে আগেও ঘটেনি পরেও না। 'নাগিনা' ছবিটি ছিল রহস্য রোমাঞ্চ ভয়ের। সাবালক দৃশ্য সে অর্থে ছবিতে ছিল না। ভৌতিক রহস্য রোমাঞ্চ ছবি বলেই অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেট পায়।
নাবালিকা বয়সে কয়েকটি মাত্র ছবিতে অভিনয় করেছিলেন নূতন। মা শোভনা সমর্থ তখন প্রচুর অর্থের মালকিন। শোভনা মেয়ে নূতনকে ১৯৫৩ সালে সুইজারল্যান্ডে পড়তে পাঠিয়ে দেন। এক বছর সুইজারল্যান্ডে ছিলেন নূতন। ভারতে ফিরে আসার পর, ১৯৫৫ সালে 'সীমা' ছবিতে বলরাজ সাহানির বিপরীতে অভিনয় করেন নূতন। এই ছবিতে অভিনয় করে নূতন জীবনে প্রথম ফিল্মফেয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। যে ছবি দিয়েই নূতনের কপাল খুলে যায়।

১৯৫৭ সালে দেব আনন্দের বিপরীতে নূতনের হিট ছবি ছিল 'পেয়িং গেস্ট'। এরপর ১৯৫৯ সালে রাজ কাপুরের সঙ্গে 'আনাড়ি'। ১৯৬৩ তে এসেছিল নূতনের কালজয়ী ছবি 'বন্দিনী'। ফিল্ম সমালোচক থেকে দর্শকদের কাছে বিমল রায় পরিচালিত 'বন্দিনী' তুমুল প্রশংসা পায়। এই ছবি থেকে আবার ফিল্মফেয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান নূতন।
১৯৬৭ সালে 'মিলন' ছবিতে সুনীল দত্তর বিপরীতে অভিনয় করে আবার ফিল্মফেয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান নূতন। এরআগে 'সুজাতা' ছবিতেও সুনীল দত্তের নায়িকা ছিলেন নূতন। সুবোধ ঘোষের কালজয়ী কাহিনি অবলম্বনে বিমল রায়ের 'সুজাতা' আলোড়ন তুলেছিল সেসময়। জাতপাত, বর্ণ্যবৈষম্য নিয়ে ছবি ছিল 'সুজাতা'। এমন এক নিম্নজাতের মেয়ের চরিত্রে দর্শকদের কাঁদিয়ে ছেড়েছিল নূতনের মর্মস্পর্শী অভিনয়।
চল্লিশ পেরোলে যখন নায়িকাদের প্রস্থান নেবার সময় আসে, তখনও জাদু দেখিয়েছিলেন নূতন। ৪২ বছরের নূতন পঞ্চম বার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান, 'ম্যায় তুলসী তেরি অঙ্গন কি' ছবির থেকে।
নূতন কিন্তু যৌবনে দিলীপ কুমারের নায়িকা হননি কখনও। একটি ছবিতে তাঁরা দু'জনে কদিন অভিনয় করলেও সে ছবি বন্ধ হয়ে যায়। অথচ প্রবীন চরিত্রে দিলীপ কুমারের বিপরীতে নূতনের ব্লকবাস্টার হিট ছবি 'কর্মা'। 'মেরি জাং' ছবিতে অভিনয় করে এবার শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিলেন নূতন। ১৯৯১ সালে ক্যানসারে প্রয়াত হন নূতন।

তবে প্রথম জীবনের 'নাগিনা' ছবির ঘটনা নূতন কখনও ভোলেননি। পরবর্তীকালে তাঁকে ওভাবে হলের সামনে আটকে দেওয়ার ঘটনায় বেশ মজাই পেতেন। এমন বিরল ঘটনা আর কোনও অভিনেত্রীর জীবনেই কখনও ঘটেনি।