
নাহিদ ইসলাম।
শেষ আপডেট: 6 August 2024 13:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে জুন মাস থেকে শুরু হয়েছে কোটা বিরোধী তথা সরকার বিরোধী আন্দোলন, বিক্ষোভ। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য দেশের কোটা নীতি সংস্কারের দাবি হিসেবে আন্দোলন শুরু হলেও তা ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে চেহারা নেয়। সেই আন্দোলনে পুড়ে গেছে গোটা দেশ, গদি উল্টে গেছে আওয়ামী লীগের নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি।
এমনই পরিস্থিতিতে নাম উঠে আসছে, ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের। তাঁরই নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলন। শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিও তিনিই সামনে এনেছিলেন। সোমবার দেশব্যাপী কার্ফু অমান্য করে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তাঁরই নেতৃত্বে হামলা চালায় হাজার হাজার জনগণ।
কৌতূহল ঘনিয়েছে, কে এই ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম?
জানা গেছে, নাহিদ ইসলাম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তবে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে অনেকদিন ধরেই কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন জাতীয় সমন্বয়কারী বা কোঅর্ডিনেটর হিসেবে সামনে আসেন তিনি।
জুন মাসে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রবীণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল করার পরে এই নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে এই ৩০ শতাংশ কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবি প্রাথমিকভাবে তুলেছিলেন ছাত্রছাত্রীরা।
নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এই কোটা ব্যবস্থাকে বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেছিলেন তাঁরা, বলেছিলেন, মেধাকে হারিয়ে ক্ষমতাকে জিতিয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক কারচুপি ছাড়া কিছু নয় এটি। আন্দোলনের শুরু থেকেই শাসক দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নাহিদ ইসলাম। সরকারি কর্মীদের নেত্রী হাসিনার মোতায়েন করা 'সন্ত্রাসী' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও, শাহবাগে বিক্ষোভকারীদের সম্বোধন করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে ছাত্ররা 'আজ লাঠি তুলেছে', লাঠিতে কাজ না হলে 'অস্ত্র তুলতেও' তারা প্রস্তুত।
আন্দোলনে নাহিদের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে পৌঁছয়, তখনই তাঁকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ১৯ জুলাই সবুজবাগ এলাকার একটি বাড়ি থেকে সাদা পোশাকে অন্তত ২৫ জন মিলে তাঁকে অপহরণ করে বলে জানা যায়। অভিযোগ, চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে, আন্দোলন নিয়ে তাঁকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নির্যাতনও করা হয় বলে অভিযোগ। এর দু'দিন পর পূর্বাচল এলাকায় তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। শরীরে ছিল মারধরের চিহ্ন।
এখানেই শেষ নয়, ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে ফের তাঁকে অপহরণ করা হয় ২৬ জুলাই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এই অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে।
সোমবার শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরে রাতে সাংবাদিক বৈঠক করেন নাহিদ। তিনি বলেন 'আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব করব। সেখানে অভ্যুত্থানকারীদের অংশ থাকবে এবং সমাজের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।' এছাড়া আর কোনও ধরনের সরকারকে সমর্থন না করার কথা ছাত্রদের তরফে ঘোষণা করেন তিনি। সেনা সমর্থিত সরকার বা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার-- এ ধরনের কোন সরকারকে বিপ্লবী ছাত্রজনতা গ্রহণ করবে না বলেই স্পষ্ট দাবি করেন তিনি।