.webp)
শেখ হাসিনা তাঁকে সুদখোর হিসেবে মনে করতেন
শেষ আপডেট: 6 August 2024 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওঁকে 'পদ্মায় চুবানি দেওয়া উচিত'। একদিন নোবেলজয়ী মুহম্মদ ইউনুস সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছিলেন এখন দেশত্যাগী বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পদে বসতে চলেছেন ইউনুস। বাংলাদেশ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী ইউনুসের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রবল বিরোধ ছিল। শেখ হাসিনা তাঁকে সুদখোর হিসেবে মনে করতেন।
অন্যদিকে, হাসিনাকে বাংলাদেশের 'গণতন্ত্রের খুনি' বলে ডাকতেন ইউনুস। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র হত্যায় ভারতের সাহায্য রয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন তিনি। ইউনুসের মতে, শেখ হাসিনা শুধু ভারতের সমর্থনে নির্বাচন না করে স্বৈরাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিলেন। এমনকী এখনও বাংলাদেশে যে ভারত-বিরোধী আওয়াজ উঠছে, তারও মূল কারণ হাসিনাকে নয়াদিল্লির আশ্রয় দেওয়া।
মার্কিন ও ব্রিটিশপন্থী ইউনুসের সঙ্গে হাসিনা ও আওয়ামি লিগের আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে। হাসিনার দল অনেকদিন ধরে অভিযোগ তুলে আসছে, আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলি তাদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ইউনুসকে বাংলাদেশের শাসনকর্তা করার চাল চালছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাঙ্কের টাকা বন্ধের জন্য ইউনুসকে দুষতেন হাসিনা। বলেছিলেন, একটি এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করেছে, তাকে পদ্মা নদীতে দুইটা চুবানি দিয়ে তোলা উচিত। মরে যাতে না যায়, পদ্মা নদীতে একটু চুবানি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে যদি শিক্ষা হয়। পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করাল ইউনুস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটি এমডি পদে তাকে থাকতে হবে।
একবার সাক্ষাৎকারে ইউনুস বলেছিলেন, উনি (শেখ হাসিনা) মনে করেন— আমি দেশের সর্বোচ্চ ডাকু, সন্ত্রাসবাদী কিংবা আমি অপরাধী, সেরা চোর৷ আমাকে বলেন— আমি সুদখোর, ঘুষখোর৷ এমন সব কটু শব্দ ব্যবহার করেন যেন মনে হয় আমার সম্পর্কে ধারণা খুবই খারাপ। সম্পর্কে কেন ফাটল সেটা বলতে পারব না। তবে আমি বলতে পারি— আমার তরফ থেকে হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমার নামই সহ্য হয় না শেখ হাসিনার। আমার নাম উঠলেই তাঁর রাগ উঠে যায়। আমাকে পদ্মা নদীতে চুবিয়ে না ডুবালে তাঁর মনে শান্তি আসে না।
অশীতিপর নোবেলজয়ীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রম-আইন ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলাতে ইউনুসকে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার আদালত। সেই সঙ্গে ছ’মাসের জেলের সাজাও দেওয়া হয় তাঁকে। বাংলাদেশের সমাজকর্মী তথা একমাত্র নোবেলজয়ী ইউনুসের সংস্থা গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রম আইন লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে কাজ চালানোর মামলা চলছিল। সেই মামলায় ইউসুফ-সহ তাঁর সংস্থার চার জনকে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকা আদালত। আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেন তাঁর অনুগামীরা।
আদালত তাঁকে হাজতবাসের সাজা দিলেও অবশ্য তাঁকে জেলে যেতে হয়নি। তিনি এবং তাঁর সংস্থার চার কর্মী অবিলম্বে জামিনও পেয়ে যান। তবে ইউনুসকে এ ভাবে অপদস্থ করার বিরুদ্ধে সরব হন তাঁর অনুরাগীরা। ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছিলেন ইউসুফ। তাঁকে ওই সম্মান দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের মাটিতে তাঁর তৈরি মাইক্রোফিন্যান্স ব্যাঙ্কের জন্য। ওই ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে ইউনুস বাংলাদেশের লক্ষাধিক দরিদ্র মানুষকে দারিদ্রসীমা থেকে টেনে তুলেছেন বলে মনে করেছিল নোবেল প্রদানকারী সংস্থা।
ইউনুসের মতে, ভারত নিজের দেশে গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছে। কিন্তু তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে স্বৈরাচারকে সমর্থন করেছে। ভারত-বাংলাদেশের সর্বশেষ বিরোধকে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করায় তিনি ব্যথিত। ইউনুস বলেন যে, বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী দেশ। তাহলে কীভাবে ভারত এখানকার পরিবেশের অবনতির দিকে তাকাচ্ছে না? তিনি বলেন, বাংলাদেশও সার্কের সদস্য। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করা ভারতের দায়িত্ব।