দুপুরের দিকে এক্সকাভেটর এগিয়ে আসতেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ব্যারিকেড গড়ে দেয়। সংঘর্ষ শুরু হয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। বিক্ষোভকারীরা ধাক্কাধাক্কি করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
.jpeg.webp)
শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 17 November 2025 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধানমন্ডি ৩২ নম্বর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের (Mujibur Rahman) ঐতিহাসিক বাড়ির সামনে সোমবার দুপুরে হঠাৎ দেখা গেল দুটি এক্সকাভেটর। আর মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরো মিরপুর রোড। আন্দোলনকারীদের দাবি—প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে তারা বাড়িটি ভেঙে দেবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক ইঞ্চিও ছাড় দিল না। (Sheikh Hasina Verdict)
দুপুরের দিকে এক্সকাভেটর এগিয়ে আসতেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ব্যারিকেড গড়ে দেয়। সংঘর্ষ শুরু হয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। বিক্ষোভকারীরা ধাক্কাধাক্কি করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ইটপাটকেল ছোড়া হলে পুলিশের এক সদস্যের মাথায় আঘাত লাগে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। তীব্র শব্দে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। তবে শান্ত হয়নি পরিস্থিতি— পৌনে দু’টোর দিকে দুই দলে ভাগ হয়ে পুনরায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে তারা। সেনাবাহিনী ও পুলিশ আবারও তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা এক্সকাভেটর দুটোই সবার দৃষ্টি কাড়ে। ডিএমপির ধানমন্ডি অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নিতে কেউ চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়িটি—যেখানে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল—২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিক্ষোভকারীরা আগুন দেয়। এর আগের ফেব্রুয়ারিতেই বাড়িটির অর্ধেকের বেশি অংশ গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ ঘোষণা করছে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়। শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। সেই রায় ঘিরেই রাজধানীর রাজপথে তীব্র উত্তেজনার এই দৃশ্য।
শতাধিক সেনাসদস্য, বিপুল পুলিশবাহিনী আর টানটান পরিবেশ—ধানমন্ডি ৩২ নম্বর যেন আজ আবারও ইতিহাসের এক কঠিন মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে।