
মুক্তির পর পিকে হালদার
শেষ আপডেট: 25 December 2024 08:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রশান্ত কুমার হালদার মঙ্গলবার প্রেসিডেন্সি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। পিকে হালদার নামে বেশি পরিচিত এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সে দেশের তিনটি ব্যাঙ্ক থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। ওপারে অর্জিত অর্থ তিনি এপারে বিনিয়োগ করেছেন বলে খবর। দু-বছর আগে এপারে তাঁকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট গ্রেফতার করে। এপারেও নামে-বেনামে বহু কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন তিনি।
ব্যাঙ্কের অর্থ তছরুপের অভিযোগে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় পিকে বিশ্বাসের ২২ বছর জেল হয়েছে। তারপরই গোপনে এপারে চলে আসেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওপারের পাশাপাশি এপারেও বহু নেতাকে মোটা টাকা জুগিয়েছেন তিনি। তবে পিকে হালদাল মূলত বিএনপি ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী। খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে তাঁর ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে। বিএনপি-র কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার জন্য তিনি ছিলেন গৌরী সেন। দলের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক জিয়া তাঁদের অন্যতম। টাকার দরকার হলেও পিকের কাছে লোক পাঠিয়ে দিতেন ওই নেতারা।
ব্যবসা ও দু-নম্বরি কাররার বাঁচাতে জমানা বদলের পর আওয়ামী লিগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালেও তলে তলে বিএনপি নেতাদেরও অর্থ জোগাচ্ছিলেন। আওয়ামী লিগের এক প্রভাবশালী প্রবাসী নেতাকে কয়েক শো কোটি টাকা দিয়েছেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পারেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। আমদানি-রপ্তানি, গার্মেন্টস-সহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় ফেঁসে দেশ ছেড়ে এপারে চলে আসেন।
এপারেও ব্যবসার জাল বিস্তার করেন। এপারের কয়েকজনের সঙ্গে টাকা-পয়সা লেনদেনের সূত্রে এই বাংলদেশি ব্যবসায়ীর সন্ধান পায় ইডি। উত্তর ২৪ পরগনার ডেরা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ভারতের ওই এজেন্সি। দু’দিন আগে তাঁকে জামিন দেয় আদালত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, সময় হলেই মুখ খুলব। এই বলে অজ্ঞাত স্থানে রওনা হয়ে যান। জেলের বাইরে তাঁর জন্য গাড়ি অপেক্ষা করছিল।