গত ১৭ নভেম্বর এই ট্রাইবুনালই শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ফাঁসির সাজা দিয়েছে বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও

শেখ হাসিনা-সজীব ওয়াজেদ জয়
শেষ আপডেট: 4 December 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে এবার শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের (Sajeeb Wazed) নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিল বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (Bangladesh International Crimes Tribunal। গত ১৭ নভেম্বর এই ট্রাইবুনালই শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ফাঁসির সাজা দিয়েছে বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও (Asaduzzaman Khan) ।
বৃহস্পতিবার ট্রাইবুনাল হাসিনা পুত্রের সঙ্গেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে প্রাক্তন তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক (Zunaid Ahmed Palak), সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধেও। পলক, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান বর্তমানে জেলে রয়েছেন। জয় এবং বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গতবছর জুলাই অগস্ট মাসে সরকার বিরোধী আন্দোলন চলার সময় তাঁরা ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি করেন। তার আগে তাঁরা সমাজমাধ্যমে উসকানি মূলক বক্তব্য পেশ করেন বলে অভিযোগ। হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন জয় ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি প্রভাব খাটান বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারীরা বুধবার পেশ করা রিপোর্টে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার সেই তদন্ত রিপোর্টকে মান্যতা দিয়ে ট্রাইবুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়।
সজীব ওয়াজেদ জয় দীর্ঘদিন হলো আমেরিকায় আছেন। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে তিনি মাঝে মধ্যে দেশে যেতেন। গত বছর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে জয় এবছর মার্চ মাস নাগাদ আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়েছেন। তারপর মার্কিন পাসপোর্ট নিয়ে তিনি দিল্লিতে এসে মায়ের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সাধারণভাবে ইন্টারপোলকে রেড কর্নার নোটিশ জারির আরজি জানানো হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশকেও অনুরোধ করা হয় আদালতে অভিযুক্তকে ফেরানোর জন্য। তবে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোন উত্তর কোন চুক্তি নেই। তবে ভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তকে ফেরানো সম্ভব। এজন্য লম্বা আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। মার্কিন আদালত যদি মনে করে যে তাদের কোন নাগরিক বাংলাদেশে অপরাধী জড়িত তাহলে তারা সেই ব্যক্তিকে ফেরাতে পারে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের খবর, আমেরিকা আদালত এই ব্যাপারে কঠোর মনোভাব নিয়ে থাকে।