
মেয়ে অক্ষতার সঙ্গে সুধা মূর্তি।
শেষ আপডেট: 20 July 2024 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতুল সম্পদ-ঐশ্বর্যের মালকিন হওয়া সত্ত্বেও সাদাসিধে জীবনযাত্রার জন্য সমাজে বহু মানুষের শ্রদ্ধা কুড়িয়েছেন ইনফোসিস-কর্ত্রী তথা কয়েকশো কোটির সম্পত্তির মালকিন, রাজ্যসভা সদস্য সুধা মূর্তি। ৭৩ বছর বয়সি ইঞ্জিনিয়ার থেকে তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানির মালকিন হয়েও সমাজসেবা এবং লেখালেখি করেই সময় কাটান সুধা মূর্তি। কিন্তু এই সমাজসেবার কাজ তাঁকে করতে শিখিয়েছিলেন, তাঁর কন্যা অক্ষতা। সে কথাই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলেন সুধা।
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে সুধা মূর্তি বলেছেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে চলা একটি সাধারণ কথোপকথন কীভাবে তাঁকে মানুষের জন্য কিছু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল, তাঁর সমাজসেবার যাত্রা শুরু করতে সাহায্য করেছিল। সুধা মূর্তি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে এই মানুষের জন্যও কিছু করা উচিত-- এই বিষয়টি তিনি কখনও ভাবেননি, তিনি 'ঘুমিয়েছিলেন', যেখান থেকে তাঁর মেয়ে তাঁকে জাগিয়ে তোলেন এবং নিজের প্রাপ্তিকে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে তোলেন।
সুধা মূর্তি জানান, তাঁর মেয়ে অক্ষতা একটি স্পনসরশিপের অনুরোধ নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন। বলেছিলেন, 'আমি আনন্দ শর্মা নামে খুব মেধাবী একটি ছেলেকে খুঁজে পেয়েছি, যে পড়াশোনায় খুব ভাল কিন্তু খুব গরিব। সে হয়তো সুযোগ পেলে ভাল ফল করতে পারে। দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজে ভর্তির জন্য ওকে স্পনসর করা যেতে পারে?'
সুধা মূর্তি সেই সময়ে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই হাল্কা গলাতেই বলেছিলেন, অক্ষতা চাইলে স্পনসর করতেই পারেন। তখনই অক্ষতা তাঁকে বলেন, 'আমায় তো তুমি টাকাই দাও না। আমি কীভাবে করব স্পনসর?' পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রাপক সুধা জানান, তিনি সত্যিই তাঁর সন্তানদের কখনও টাকা দেননি। তার বদলে তিনি সর্বদাই বলতেন, কী লাগবে তার তালিকা তৈরি করতে, যা তিনি মেটাতেন সময়মতো।
সুধা মূর্তি ভিডিওয় বলেছেন, মেয়ের স্বতঃস্ফূর্ত সেই প্রতিক্রিয়াই তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিল। মেয়ে বলেছিলেন, 'মা, তুমি এত ঘুরেছো, এত পড়েছো, তুমি বুদ্ধিমতী-- তুমি যদি মানুষের জন্য কোনও কাজ করতে না পারো, তাহলে তোমার কাউকে বলার অধিকারও নেই যে অন্য কেউ সেই কাজ করুক।'
দেখুন সুধা মূর্তির সেই ভিডিও।
My daughter Akshata’s perspective made me realise the importance of sharing our blessings with others.
— Smt. Sudha Murty (@SmtSudhaMurty) July 19, 2024
Source: Blue Sky pic.twitter.com/WyiVhODaI8
অক্ষতার এই কথাগুলিই তাঁকে ভাবিয়েছিল। সপ্তাহখানেক ধরে চিন্তাভাবনা করার পরে, সমাজসেবামূলক কাজ শুরু করেন সুধা মূর্তি। এবং রীতিমতো 'ফুলটাইম জব' হিসেবেই এই কাজে ডুবে যান তিনি। তাঁর কথায়, 'আমি আসলে ঘুমোচ্ছিলাম। আমার মেয়ে আমাকে জাগিয়েছিল।'
উল্লেখযোগ্য, সুধা মূর্তির বহু জনসেবামূলক প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করা, গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা করা, কর্নাটকের সরকারি স্কুলে কম্পিউটার ও লাইব্রেরি তৈরি করা, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের মূর্তি ক্লাসিক্যাল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা-- ইত্যাদি। গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও জনস্বাস্থ্য পরিষেবায় জড়িত মিসেস মূর্তি।