
শেষ আপডেট: 12 March 2024 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, বাংলায় এই আইনের অপপ্রয়োগ আটকানোর যাবতীয় চেষ্টা করা হবে। তিনি সকলের আগে পথে নামবেন, এমন কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিএএ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও। তিনিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার এই আইন কেরলে কার্যকর করতে দেবে না তাঁর সরকার। বস্তুত, মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র মমতা ও পিনারাই এখনও পর্যন্ত সিএএ-র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন।
যদিও সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন বিবেচনার জন্য যে দুটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে সেখানে রাজ্য প্রশাসনের কার্যত কোনও ভূমিকা রাখা হয়নি। এতদিন নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে শেষ কথা ছিলেন জেলাশাসকেরা। সিএএ-র ক্ষেত্রে জেলাস্তরের কমিটিতেই রাখা হয়নি জেলা শাসককে। জেশাশাসকের অফিসের একজন অধস্তন আধিকারিককে কমিটিতে রাখা হবে যিনি মূলত নথিপত্র বাছাইয়ের কাজ করবেন।
সিএএ নিয়ে বিতর্কে বাংলায় তৃণমূল এবং কেরলে সিপিএম সরকার বারে বারে বলেছে, রাজ্য প্রশাসন কিছুতেই এই আইন কার্যকর হতে দেবে না। জেলা শাসকেরা রাজ্য সরকারের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা এই আইন নিয়ে পদক্ষেপ করবেন না। কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, কার্যত জেলা শাসকের অফিসকে বাইপাস বা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রের তৈরি কোনও আইন কার্যকরে রাজ্য সরকার বাধা হতে পারে না। কিন্তু প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগে তা কার্যকরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সুযোগ যাতে না থাকে সেই দিকটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সেই কারণে হাতে হাতে বা ই-মেলে নয়, একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে (https://indiancitizenshiponline.nic.in) আবেদন করতে বলা হয়েছে, যেটি পরিচালনা করবে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার।
সিএএ মেনে নাগরিকত্বের আবেদন বিবেচনার জন্য দুটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। একটি জেলা স্তরের কমিটি। আর একটি কেন্দ্রীয় কমিটি। দেখা যাচ্ছে জেলাস্তরের কমিটির শীর্ষে জেলা শাসকের পরিবর্তে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার পোস্ট মাস্টার অথবা জেলা ইনফরমেটিক্স অফিসার, যাঁরা দু’জনেই ভারত সরকারের অফিসার। দুই সদস্যের কমিটির দ্বিতীয় জন কেন্দ্রের মনোনীত অথবা জেলা শাসকের অফিসের তহশিলদার পদমর্যাদার কোনও ব্যক্তি হবেন। প্রশাসনিক মহলের মতে, মনোনীত্ ব্যক্তির ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রতিনিধিকে বিকল্প হিসাবে রাখার বিধান আছে। অর্থাৎ বাংলা, কেরলের মতো রাজ্যে সিএএ কার্যকরে প্রশাসনিক অসহযোগিতা হলে কেন্দ্রের মনোনীত অফিসার কমিটির সদস্য হবেন।
জেলা স্তরের কমিটির দায়িত্বও খুবই সীমিত। নাগরিকত্ব দেওয়া, এমনকী দরখাস্ত বাতিলের ক্ষমতাও তাদের দেওয়া হয়নি। জেলা কমিটি নথিপত্র যাচাই করবে মাত্র। কোনও দরখাস্ত উপযুক্ত না হলে তা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়ে দিতে হবে করণীয় জানতে।
নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়ে শেষ কথা বলার অধিকার দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্তরের কমিটিকে। দুই সদস্যের সেই কমিটির সদস্যরা হলেন ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের অধিকর্তা। এই কমিটির কাজে কোনওভাবেই রাজ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কেরল ও বাংলার বিরোধিতার কথা বিবেচনায় রেখে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেন্দ্র মনে করলে কমিটির গঠন এবং সদস্য সংখ্যা, সবই বদলে দিতে পারে। বিধি বদলের ক্ষমতা পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত। এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, আগামী দিনে বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে তখন হয়তো সব ক্ষমতা জেলা শাসকের হাতেই তুলে দেওয়া হবে। এখন বিজেপি বিরোধী সরকার আছে বলেই কমিটিতে রাজ্য প্রশাসনকে ব্রাত্য রাখা হয়েছে।