1.jpeg)
ফের চাপের মুখে সিদ্দারামাইয়া।
শেষ আপডেট: 16 November 2024 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে। একদিকে মহিশূর আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা মুডা কেলেঙ্কারি। অন্যদিকে, ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সংস্কার করা নিয়ে ফের চাপের মুখে সিদ্দারামাইয়া। এনিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব কংগ্রেস সরকারকে তুলোধনা করে বলেছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বদলে আখের গোছাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না হলে সংস্কারের নামে দামি আসবাব, বাথরুমের ভোলবদল এবং মূল্যবান আলোকসজ্জার কী প্রয়োজন ছিল?
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া স্বঘোষিত সমাজতন্ত্রী। আর তা নিয়েই বিজেপির আক্রমণের ধার আরও বেশি করে শানিয়ে উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর সমাজতন্ত্রী মুখোশ খসে পড়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় ২০ বছর পর কর্নাটকের বিধান সৌধে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় ঢেলে সাজা হয়েছে। তবে বিজেপির অভিযোগ, সংস্কার হলে কথা ছিল, কিন্তু আদতে যা হয়েছে সিদ্দারামাইয়ার অফিসকে দামি দামি আসবাব, আলোয় একেবার ঝাঁ চকচকে করা হয়েছে।
বিশেষত মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাথরুমের ভোল বদলে দেওয়া হয়েছে। অফিসের মেঝে এবং দেওয়াল কাঠের করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী অ্যান্টি চেম্বার বা বিশ্রামকক্ষকে কর্পোরেট ধাঁচে বদলে ফেলা হয়েছে সরকারি খরচে। পুরনো আসবাবের জায়গায় সব নতুন আসবাব ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম আমদানি করেছেন সিদ্দারামাইয়া।
বিজেপির আরও অভিযোগ, রাজ্যের রাজধানী শহর বেঙ্গালুরুতেই যখন বর্যাকালে খানাখন্দের জন্য গাড়ি চলাচল করতে পারে না। মানুষ প্রায় প্রতিদিনই গর্তে পড়ে জখম হচ্ছেন। তখন এইভাবে বিলাসী খরচ না করে রাস্তা মেরামত করলে মানুষের উপকার হতো।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সরকারি আধিকারিক বলেন, জ্যোতিষীর নির্দেশে কোনও বাস্তুতন্ত্রের কারণে এই অফিস সংস্কার হয়নি। দেওয়ালে জল গড়াচ্ছিল এবং কোথাও কোথাও জল লিক করছিল। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের লেআউটের কোনও পরিবর্তন হয়নি। এনিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বিওয়াই বিজয়েন্দ্রর অভিযোগ, বাজে খরচ না করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের জরুরি কাজ করাতে পারতেন।
শাসক কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য এটা কারও ব্যক্তিগত অফিস নয়। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও বলেন, এটা মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় কারও ব্যক্তিগত অফিস নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি বিমান-হেলিকপ্টারে যাতায়াতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন না! সেটা তো দেশের পয়সা।
কংগ্রেস যাই বলুক, এটাই প্রথম নয়। সিদ্দারামাইয়া এর আগে যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন দুটি সরকারি বাসভবন ও বাড়ির অফিস ঝাঁ চকচকে করে সংস্কার করিয়েছিলেন। সেবার খরচ পড়েছিল ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা। এবার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাংলোর ভিতরে লন এবং উদ্যানের অংশ ধ্বংস করে সেখানে একটি নতুন কনফারেন্স হল বানিয়েছেন।