
শেষ আপডেট: 14 December 2023 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লখনউয়ের বাড়িতে বসে রোশনলাল শর্মা এখনও বিশ্বাসই করে উঠতে পারছেন না তাঁর ছেলে এমনটা করতে পারে। মুখে মাঝে মধ্যে বলত বটে, অনেক বড় কিছু করে দেখাবে একদিন। তবে সেটা যে এত ভয়ঙ্কর কিছু, যার জন্য তার গোটা ভবিষ্যৎটাই খরচের খাতায় চলে যেতে বসেছে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি রোশন লাল। পেশায় ই-রিকশা চালক সাগর শর্মার বাবা এখনও বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে উঠতেই পারছেন না। বুধবার সংসদে হামলার ঘটনার পর সাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আপাদমস্তক 'ভাল' ছেলের এমন পরিণতির জন্য সাগরের বেঙ্গালুরুর এক বন্ধুকেই দায়ী করছেন রোশন লাল। তাঁর দাবি, সেই বন্ধুই সাগরের মগজ ধোলাই করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বুধবার দুপুরে সংসদে লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন দর্শকদের গ্যালারি থেকে ঝাঁপ দেন ২ জন। তাঁদের মুখে ছিল স্লোগান, "স্বৈরাচার চলবে না।" আর জুতোর শুকতলার নিচে লুকিয়ে রাখা ছিল কালার্ড স্মোক ক্যানিস্টার। সেই ক্যানিস্টার থেকেই হলুদ ধোঁয়া স্প্রে করে লোকসভায় তুমুল আতঙ্ক তৈরি করে তারা। সেই ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন সাগর শর্মা। লখনউয়ের বাসিন্দা সাগর পেশায় একজন ই-রিকশা চালক। তাঁর গ্রেফতারির পর মুখ খুলেছেন বাবা রোশন লাল। তিনি জানিয়েছেন, সাগর সবসময়ই বলতেন বড় কিছু করতে হবে।
রোশন লাল আরও জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা এক বন্ধুর সঙ্গে প্রায়ই ফোনে কথা বলতেন সাগর। সেই বন্ধুর সঙ্গেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাগরের আলোচনা শুনে ফেলেছিলেন তাঁর বোন। রোশনের দাবি, ছেলেকে বহুবার তিনি বুঝিয়েছিলেন, এমন কিছু না করতে যাতে পরিবারকে বিপদের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সেকথা শোনেনি সে। "বেঙ্গালুরুর বন্ধুই ওর মাথাটা খেয়েছে," দাবি রোশনের। ছেলে যে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে চলেছে সেটুকু তিনি বুঝেছেন। সেই সঙ্গে তার মগজধোলাই করার জন্য বেঙ্গালুরুবাসী ওই যুবকেরও শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।
সাগর স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগৎ সিং-এর অনুরাগী ছিল। বর্তমান সরকারের কার্যকলাপে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিল সে, জানিয়েছেন রোশন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও উঠে এসেছে তেমনটাই। জানা গেছে, ভগত সিং ফ্যান ক্লাব নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রুপ মারফত আলাপ হয়েছিল সাগর সহ এই ঘটনায় জড়িত বাকিদের। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে তবেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা, এমনটাই জানা গেছে। এমনকী সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এই কাণ্ড ঘটানোর জন্য বাদল অধিবেশনের সময় রেইকি করে গিয়েছিল তারা, জানতে পেরেছে পুলিশ।
বিস্ময়ের ঘোর এখনও কাটিয়ে উঠতে পারছেন না সাগরের মা। জানিয়েছেন, ছেলে দিল্লি যাচ্ছে বলে বেরিয়েছিল, বলে গিয়েছিল দুদিনের মধ্যেই ফিরে আসবে। কিন্তু সে যে আসলে কী করতে যাচ্ছে, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি তিনি। তাঁর মুখে বারবার একটাই কথা, "আমার ছেলেটা এরকম নয়।"
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড এবং স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর তদন্তকারীরা এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে গেছে সাগরের পরিবারের লোকজনকে। তাঁদের জেলা কিংবা রাজ্য ছেড়ে কোথাও যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাগরের পরিবারের কোনও ভূমিকা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উত্তরপ্রদেশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের অনুমান, বেঙ্গালুরু এবং রাজস্থানের সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সাগরের। পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।