ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2025 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিষাক্ত ক্যাডমিয়াম সংক্রমণের জেরেই মর্মান্তিক পরিণতি ১৭ জনের। জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরির গ্রামে একের পর এক মানুষের মৃত্যুর রহস্য এবার সামনে এল। গত এক মাস ধরে এই ‘অজানা রোগ’ রাজৌরির বারহাল গ্রামে রীতিমতো ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি তদন্তে নেমেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি বিশেষ দল। অবশেষে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়ে দিলেন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নয় বিষাক্ত ক্যাডমিয়াম সংক্রমণের জেরেই এমন পরিণতি।
যদিও চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই জানিয়ে আসছিলেন কোনওরকম ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজাত সংক্রমণ কোনওভাবেই এত মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে না। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, লখনৌতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টক্সিকোলজি রিসার্চে আক্রান্ত ও মৃতদের শরীরের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে। তবে কেমন ভাবে এই ক্ষতিকারক ক্যাডমিয়াম মানুষের শরীরে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখা হবে।
গত সপ্তাহে একদল স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জানিয়েছিলেন, ১৭ জনের মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে নিউরোটক্সিন। প্রত্যেকের শরীরেই উপসর্গগুলি একই ধরণের। এই ধরনের বিষ শরীরে প্রবেশ করার অর্থ ব্রেন সোয়েলিং কিংবা এডেমা। জানা গেছে, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এবং পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি থেকে। সেখানেও মৃতদের শরীরে রয়েছে নিউরোটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তবে এর পিছনে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মনে করছেন জিতেন্দ্র সিং। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এর পিছনে অন্য কারও হাত থাকলে রেয়াত করা হবে না। ক্যাডমিয়াম কোনওভাবে মানবদেহে প্রবেশ করলে তা একাধিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খাবার, জল বা দূষিত বাতাস থেকে ক্যাডমিয়াম মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
গত ডিসেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন এই উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই অজানা রোগে জর্জরিত রাজৌরির প্রান্তিক গ্রামটি। ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত। তার মধ্যে ১৪ জনই শিশু। শেষ পাওয়া খবর, বর্তমানে মৃতদের সংস্পর্শে আসা মোট ২০০ জনকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। গোটা বারহাল গ্রামকেই কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। একাধিক পরিবারকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।