
কাজিরাঙা জঙ্গল।
শেষ আপডেট: 15 July 2024 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বিলুপ্তপ্রায় একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রের একাংশ ও ৪৬টি নজরদারি শিবির এখনও জলের তলায়। সোমবার বন কর্তৃপক্ষের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বন্যায় ১০টি গণ্ডারসহ ২০০টি পশুপাখির মৃত্যু হয়েছে। যা বেশসড় ক্ষতি বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
গত মে মাস থেকে অতিবৃষ্টির জেরে ব্রহ্মপুত্র সহ অন্যান্য নদনদী প্লাবিত হয়ে দফায় দফায় বন্যার কবলে পড়ে অসম। কয়েক লক্ষ মানুষ কমবেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। ১৩০০ বর্গকিমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত কাজিরাঙা জঙ্গল দেশের অন্যতম একটি বড় ও বিচিত্র সৌন্দর্যে ঘেরা বনাঞ্চল। পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে পর্যটক আসেন কাজিরাঙা দেখতে।
এই জঙ্গলের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হল বিলুপ্তপ্রায় একশৃঙ্গ গণ্ডার। এখানে ২৬০০-র বেশি একশৃঙ্গ গণ্ডার রয়েছে। পৃথিবীতে সবথেকে বেশি একশৃঙ্গ গণ্ডার কাজিরাঙাতেই রয়েছে। গণ্ডার ছাড়া ১৩৫টি বাঘ রয়েছে এখানে।
সোমবার এক বুলেটিনে বন কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যায় ১৯৮টি বন্যপ্রাণের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি গণ্ডার, ১৭৯টি বরা বা প্যারা হরিণ (বিলুপ্তপ্রায়), বারশিঙ্গা হরিণ, একটি ম্যাকাও, ২টি অন্য পাখি, একটি পেঁচা এবং ২টি সম্বর হরিণ।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২টি বরা হরিণের মৃত্যু জলে ডুবে হয়নি। তারা বাঁচার জন্য জঙ্গলঘেঁষা জাতীয় সড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মারা গিয়েছে। বন্যার সময় পুলিশ কাজিরাঙার পাশ দিয়ে সমস্ত রাস্তায় গাড়ি চলাচলের গতি বেঁধে দিয়েছিল।
সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমে বন্যায় গত ৮ বছরে ৮৫টি গণ্ডারের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৭ সালে সর্বাধিক ২৪টি গণ্ডারের মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার জলে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে ১৪৩টি বন্যপ্রাণকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১২৩টিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২টি গণ্ডার সহ ৬টি পশুর চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়। ১০টি বরা হরিণসহ ১৪টি হরিণও চিকিৎসা শিবিরে মারা যায়।