
তাহাউর রানা ও জয়া রায়। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 11 April 2025 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বই হামলার মূল চক্রী লস্কর-ই-তোইবার জঙ্গি তাহাউর রানাকে এনআইএ হেফাজতে যাঁর নেতৃত্বে জেরা করা চলছে, তাঁর নাম জয়া রায়। ১৯৭৯ সালের ২২ এপ্রিল জন্ম জয়া রায়ের আদি বসত এই বাংলার মাটিতে। এমবিবিএসে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বসে তাতেও উত্তীর্ণ হন।
২০১১ সালে আইপিএস অফিসার হিসেবে যোগ দেন ঝাড়খণ্ড পুলিশে। তারপর একের পর এক সার্থক অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এই বঙ্গতনয়া জামতাড়া সাইবার অপরাধ তদন্তে মুখে মুখে 'জামতাড়া কি শেরনি' খেতাব লাভ করেন। জামতাড়ায় তাঁর অভূতপূর্ব সাফল্যের কারণে ওয়েব সিরিজ জামতাড়াতেও জয়া রায়ের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ থেকে সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে তাঁকে এনআইএতে নিয়ে নেওয়া হয়। চার বছরের বেশি এসপি ব়্যাঙ্কে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার ডিআইজি পদে রয়েছেন। তাহাউর রানার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া মেটাতে যে তিনজন এনআইএ অফিসার আমেরিকা গিয়েছিলেন তাঁদের অন্যতম ছিলেন আইপিএস জয়া রায়। সেই জয়া রায়ের নেতৃত্বেই ১২ সদস্যের এনআইএ টিম এদিন থেকে জেরা শুরু করেছে তাহাউর রানাকে।
আদালত তাহাউরকে ১৮ দিন এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়ায় তাকে রাখা হয়েছে দিল্লির সিজিও কমপ্লেক্সের নীচতলার একটি ১৪ বাই ১৪ ফুট সেলে। সেখানে প্রতিটি ইঞ্চি দেখা যাবে এমন সিসিটিভির বন্দোবস্ত রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা তাহাউরের নিরাপত্তায় থাকছে প্রচুর আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান ও অফিসার।
রানার সেলে ঢোকার অনুমতি রয়েছে মাত্র ওই ১২ জন এনআইএ আধিকারিকের। সেলের লাগোয়া রয়েছে বাথরুম। ঘরের মাঝখানে শোয়া-বসার জন্য দেওয়া হয়েছে একটি খাট। এছাড়া তাহাউরের খাবার, জল, ব্যক্তিগত কিছু জিনিসের প্রয়োজন পড়লে তা তার ঘরেই পৌঁছে দেওয়া হবে।