টিফিন বক্সে ভরে রাখা হয়েছিল বোমা! কেরলে ডাক্তারদের ছুটি বাতিলের অনুরোধ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
একটা নয়, চোখের পলক ফেলার মধ্যে পরপর তিনবার বিস্ফোরণ ঘটে। আতঙ্কে সেখান থেকে বেরোনোর চেষ্টা করতে শুরু করেন মানুষ। হুড়োহুড়িতে পদপৃষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শেষ আপডেট: 29 October 2023 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের কোচির কালামাসেরিতে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সমাবেশে আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনায় যত সময় যাচ্ছে, তত বেশি আহত মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে। রবিবার সকালে ওই কনভেনশন সেন্টারে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সভা জেহবাজ উইটনেস চলার সময় আচমকাই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন মানুষ। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে একজনের। আহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ২০ জন বলে জানা গেলেও পরে তা বেড়ে হয়েছে ৩৪।
সূত্রের খবর, ৩ দিনের ওই ধর্মীয় সভার রবিবারই ছিল শেষ দিন। এদিন প্রার্থনার জন্য ওই কনভেনশন হলে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার মানুষ। ঘড়িতে তখন ৯টা বেজে ৪৭ মিনিট। তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে হলঘর। একটা নয়, চোখের পলক ফেলার মধ্যে পরপর তিনবার বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আতঙ্কে সেখান থেকে বেরোনোর চেষ্টা করতে শুরু করেন মানুষ। হুড়োহুড়িতে পদপৃষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে এনআইএ-র হাতে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের একটি দলও যাচ্ছে ঘটনাস্থলে। কেরল পুলিশ জানিয়েছে, হামলার জন্য ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল। টিফিন বক্সের মধ্যে ভরে রাখা হয়েছিল বোমাগুলি। হলঘরটি ইতিমধ্যেই সিল করে দিয়েছে পুলিশ।
কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এর পিছনে নাশকতার ছক রয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। আহতদের ইতিমধ্যে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে কাজে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তাঁর সঙ্গে ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথা হয়েছে।