
শেষ আপডেট: 8 April 2024 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কন্যাদান জরুরি নয়। তবে হিন্দু বিবাহ আইনে যে রীতির প্রয়োজন রয়েছে তা হল ‘সপ্তপদী’ বা সাত পাকে বাঁধা। সম্প্রতি একটি মামলায় এমনটাই জানিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিথ্যা অপরাধের অভিযোগ এনে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন, এই অভিযোগে মামলা করেছিলেন আশুতোষ যাদব নামের এক ব্যক্তি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে আশুতোষ আবেদনে জানান, হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে যে ‘কন্যাদান’-এর রীতি প্রচলিত, তা তাঁর বিয়েতে পালন করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিয়ের আইনত বৈধতা নেই, এই অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি চেয়ে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন যুবক। কিন্তু বিচারক তাঁর আর্জি মঞ্জুর করেননি। এরপর নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট মামলাটিতেও হাইকোর্টের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী মামলাকারীর আবেদন খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, হিন্দু বিবাহ আইনে আবশ্যিক রীতি হিসাবে ‘সাত পাকে বাঁধা’-র উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিয়ের সময়ে কন্যাদান হয়েছে কিনা, অর্থাৎ 'কন্যাদান'-এর রীতি বিচার্য নয়।
এক্ষেত্রে উচ্চ আদালত হিন্দু বিবাহ আইনের ৭ নম্বর ধারা উল্লেখ করেছে। যেখানে সপ্তপদী-কে একটি বাধ্যতামূলক ঐতিহ্য হিসাবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। তাই সেই আইনের প্রেক্ষাপটে হিন্দু বিয়েতে কন্যাদানের প্রাসঙ্গিকতা নেই।
যুগ যুগ ধরে হিন্দু বিবাহে ‘কন্যাদান’ এবং ‘সাত পাকে বাঁধা’— দুই-ই প্রচলিত রীতি মেনে বিয়ে হয়ে আসছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন নিয়মের পরিবর্তন এলেও এই দুটি রীতির তেমন বদল হয়নি। যদিও কনের পরিবারের পাত্রের হাতে ‘দান’ করা অর্থাৎ কন্যাদানের যৌক্তিকতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। তাই সেক্ষেত্রে এলাহাবাদ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।