ত্রিপুরা ও সাতক্ষীরা সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

বসিরহাটের ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায় ৭৮ জন বাংলাদেশিকে পুশ ব্যাক করেছে বিএসএফ
শেষ আপডেট: 16 May 2025 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi infiltrator) সে দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে ভারত সরকার (Govt of India)। মনে করা হচ্ছে অনুপ্রবেশের (infiltration) বিপদ নিয়ে বিরোধী দলগুলির সমালোচনার মুখে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (Border Security Force) সঙ্গে যৌথভাবে একাধিক নিরাপত্তা এজেন্সি এই কাজ শুরু করেছে।
বিগত দিনগুলির মতো এবারও বাংলাদেশ সরকার (Government of Bangladesh) আপত্তি তুলেছে। সে দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি (BGB) দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ত্রিপুরা সীমান্তে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া (Bhrahmanbaria, a border district of Bangladesh) জেলার বিজয়নগর উপজেলার (Bijaynagor Upozila) সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশ ব্যাক (Push Back) বা জোর করে সীমানা পাড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা তারা ভেস্তে দিয়েছে।
সরকারি সুত্রের খবর, গত ৪ মে থেকে বৃহস্পতিবার, ১৫ মে পর্যন্ত তিনশোর বেশি বাংলাদেশিকে তাদের দেশে ঠেলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে ভারতের সীমান্ত রক্ষী এবং উপকূল রক্ষী বাহিনী। বাংলাদেশের মেহেরপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, সাতক্ষীরা এবং খাগড়াছড়ি জেলা দিয়ে এই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হয়। বাংলাদেশের সাতক্ষীরা (Satkhira, a border district of Bangladesh, near Sundarban) জেলা ভারতের বসিরহাটে ইছামতী নদীর (Ichhamoti river) অপর প্রান্তে অবস্থিত। সুন্দরবন লাগোয়া ওই জেলায় ভারতীয় উপকূল বাহিনী (Indian coastal security force) ৭৮জনকে সম্প্রতি সাতক্ষীরা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। গুজরাতের উপকূলে তাদের গ্রেফতার করেছিল উপকূল বাহিনী।
ওই ৭৮জনকে পুশ ব্যাক করার পর বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে অন্ধকারে রেখে জনমানবহীন এলাকা দিয়ে পুশ ব্যাক করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই ধরনের পুশ ইনের তীব্র বিরোধিতা করে।
তবে তারা যে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল তা মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ বা বিজিবির ডিজি মহম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর বক্তব্য, বিএসএফ যাদের ফিরিয়েছে তাদের অনেকের ভারতের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড আছে। তারা ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছিল। এমন মানুষদের ফেরানো যায় না। তারা বহু বছর আগে কাজের সন্ধানে দেশ ছেড়েছিল
মনে করা হচ্ছে, অনুপ্রবেশের অভিযোগ বানচাল করতেই বাংলাদেশ পুশ ইন আটকাতে তৎপর। ক’দিন আগে বিজিবির সদর দফতর থেকে সীমান্ত চৌকিগুলিকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, যে কোনও মূল্যে ভারতের পুশ ব্যাক আটকে দিতে হবে। যদিও অরক্ষিত সীমান্ত নিয়ে দুই দেশই চিন্তিত। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ এবং চোরাকারবার যেমন ওইসব এলাকা দিয়ে অব্যাহত পাশাপাশি ভারতের পুশ প্যাক নিয়ে সঙ্কিত বাংলাদেশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা সম্পর্কে বিএসএফের বক্তব্য জানা যায়নি। স্থানীয় সুত্রের খবর, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী পুশ ব্যাক করতে পারে অনুমান করে স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হতে থাকে। অনেকে ফেসবুক লাইভ করে লোকজনকে সীমান্তের দিকে যেতে বলেন। বহু মানুষ সীমান্তে জড়ো হলেও কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। তবে ভবিষ্যতে দুই দেশের মানুষই সীমান্তে গিয়ে হাজির হলে বড় ধরনের অঘটন ঘটে যাওয়া অসম্ভব নয়।