Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
নৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটির

HMPV-গুজব আর মহামারীর আতঙ্ক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, এটি কি কোভিডের মতোই? জেনে নিন বিস্তারিত

‘এইচএমপিভি’ নামটা নিয়ে ভয় ক্রমেই বাড়ছে। নতুন একটি স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে গোটা বিশ্বে। ২০১৯ সালে চিনের ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরে এই HMPV-র প্রাদুর্ভাব হওয়ায়, তুলনা করা হচ্ছে কোভিড-১৯ মহামারীর সঙ্গে (HMPV Vs Corona)।

HMPV-গুজব আর মহামারীর আতঙ্ক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, এটি কি কোভিডের মতোই? জেনে নিন বিস্তারিত

HMPV এবং করোনাভাইরাসের মিল-অমিল কী কী?

শেষ আপডেট: 7 January 2025 13:00

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের হাসপাতালে আর লোক ধরছে না। সারি সারি রোগী মুখে মাস্ক বেঁধে বসে আছেন। শ্মশানগুলিতে এত মৃতদেহ এসে পৌঁছচ্ছে, যে লাইন পড়ে যাচ্ছে সেখানেও। প্রায় করোনা-কালীন মহামারী পরিস্থিতি নাকি আবার ফিরে এসেছে সেখানে। এই মর্মেই গুচ্ছগুচ্ছ ছবি, ভিডিও, খবর গত এক সপ্তাহ ধরে ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সৌজন্যে, নতুন ভাইরাস—হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস বা HMPV।

এই ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলার সময়ে চিনের সংবাদমাধ্যমগুলিকে উদ্ধৃতও করা হচ্ছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে। কিন্তু এই গোটা বিষয়টির সত্যতা কোথাওই সেভাবে যাচাই হয়নি। কোন সূত্রের কোন দাবি যে কতটা সঠিক, আর কতটা অনুমানের ভিত্তিতে লিখিত, তার কোনও হিসেব কোথাও নেই। নেই বেজিংয়ের তরফে এই নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা। কেবল আছে জনমানসে আতঙ্ক। আছে, ৫ বছর আগের কোভিডের স্মৃতি ফিরে আসা (HMPV Vs Corona)।

ভারতে ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে একাধিক শিশুর শরীরে এই ভাইরাসের খোঁজ মেলার পরে সেই আতঙ্ক যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে সোমবার থেকে।

যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রক পরিষ্কার বার্তা দিয়ে বলেছে, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। ভারতের এই ভাইরাসের সঙ্গে কোনও চিন-যোগও নেই। কারণ আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের সাম্প্রতিক কোনও ভ্রমণের ইতিহাস নেই।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মানব মেটানিউমোভাইরাস (HMPV) একটি সাধারণ শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস, যা সাধারণ ঠান্ডার মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে। ২০০১ সাল থেকেই এই ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। নতুন কিছুই নয়। এই ভাইরাসের মারাত্মক সংক্রমণ ও মৃত্যুর কোনও গবেষণালব্ধ প্রমাণও নেই।

তারপরেও এই ‘এইচএমপিভি’ নামটা নিয়ে ভয় ক্রমেই বাড়ছে। নতুন একটি স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে গোটা বিশ্বে। ২০১৯ সালে চিনের ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরে এই HMPV-র প্রাদুর্ভাব হওয়ায়, তুলনা করা হচ্ছে কোভিড-১৯ মহামারীর সঙ্গে।

HMPV এবং করোনাভাইরাসের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জেনে নিন। (HMPV Vs Corona)

  1. ভাইরাসের পরিবার: HMPV এবং করোনা ভিন্ন ভাইরাস পরিবারের অন্তর্গত।
  2. উপসর্গের তীব্রতা: HMPV সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের উপসর্গ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, করোনার কিছু স্ট্রেইন গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, রোগীর সঙ্কট বাড়াতে পারে।
  3. ইনকিউবেশন সময়: HMPV-এর ইনকিউবেশন সময় ৩ থেকে ৬ দিন, যেখানে করোনার ইনকিউবেশন সময় ২ থেকে ১৪ দিন, স্ট্রেইনের উপর নির্ভর করে।
  4. অতিরিক্ত উপসর্গ: করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কোভিড-১৯ হলে স্বাদ ও গন্ধ হারানোর উপসর্গ দেখা যায়। কিছু স্ট্রেইনে ডায়রিয়াও সাধারণ উপসর্গ হিসেবে দেখা যায়। HMPV-র ক্ষেত্রে সর্দিকাশি ছাড়া এমন কিছু নেই।

তবে HMPV এবং কোভিডের মধ্যে মিলও রয়েছে:

  1. শ্বাসযন্ত্রকে লক্ষ্য করা: উভয় ভাইরাসই শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা সৃষ্টি করে।
  2. সংক্রমণের পদ্ধতি: উভয় ভাইরাসই সংক্রমিত ড্রপলেট, সরাসরি সংস্পর্শ, পোশাক-আশাক, বাসনপত্রের মাধ্যমে ছড়ায়।
  3. উপসর্গের সাদৃশ্য: HMPV এবং কোভিড-১৯ উভয়েরই সাধারণ ও প্রাথমিক উপসর্গ হল কাশি, গলা ব্যথা, জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট।
  4. ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

HMPV ভাইরাসের প্রকোপ কীভাবে আটকানো যাবে

গবেষকরা বলছেন, করোনার সময়ে যেভাবে মানুষ সতর্ক হয়েছিলেন, এবারও একই পথ অবলম্বন করতে হবে। সময় মতো অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে বেরলে নোংরা হাত মুখে না দেওয়া, রোগীর থেকে দূরত্ব বজায় রাখার মতো কাজ করতে হবে। তবে এসবের কোনওটা নিয়েই এখনই কোনও বিভ্রান্তির কারণ নেই।

চিকিৎসা কী

এখনও পর্যন্ত HMPV ভাইরাস প্রতিরোধে কোনও চিকিৎসা নেই। ওষুধ বা ভ্যাকসিন কিছুই বের হয়নি। রোগীদের যে সকল উপসর্গ ধরা পড়বে, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা হবে। ঠিক যেমন করোনার সময়ে হয়েছিল।

এইচএমপিভি নির্ণয়ের জন্য আরটিপিসিআর (RT-PCR) পরীক্ষা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এই পরীক্ষা ভাইরাসের আরএনএ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই ভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই। হালকা সংক্রমণে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং সাধারণ ওষুধ যথেষ্ট। তবে গুরুতর সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি ও অক্সিজেন থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে।


```