
মোহন ভাগবত
শেষ আপডেট: 1 December 2024 17:01
দ্য ওয়াল ব্যরো: নব দম্পতিদের দুটি-তিনটি করে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরামর্শ দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত। ভারত সরকারকেও জনসংখ্যা নীতি বদলের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্য সরকার যখন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থান নিতে নিজেরাই আইন বদলের পথে হাঁটছে, তখন ভাগবত উল্টো কথা বলেছেন। যদিও দু-তরফের বক্তব্যে মৌলিক ফারাক আছে। উত্তর প্রদেশ, অসম, রাজস্থান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির দায় মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে।
রবিবার আরএসএসের এক সভায় ভাগবত বলেছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা বলেছেন সামাজিক ও পারিবারিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার 'হাম দো, হামারা দো' অর্থাৎ দম্পতি পিছু দুটির বেশি সন্তানের জন্ম না দেওয়ার পরামর্শ দিলেও এখন বেশির ভাগ বাবা-মা এক সন্তানেই পরিবার সীমিত রেখেছে। এর প্রভাব ধরা ওড়ে ২০১১-র জনগনণায়। দেখা যায় আগের দশ বছরের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেকটা কমে ২.২ শতাংশ হয়ে গেছে।
ভাগবত বলেন, জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে বৃদ্ধির হার ২.১ শতাংশের কম হয়ে গেলে তা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর। বলে রাখা ভাল করেনার কারণে ২০২১ সালের জনগণনা করা হয়নি। আগামী বছর তা হতে পারে বলে একাধিক সরকারি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিগত দেড় দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.১ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে।
ভাগবতের তাই পরামর্শ, নব দম্পতিরা বেশি করে সন্তানের জন্ম দিন। পরিবার পিছু দুটি-তিনটি সন্তান যেন থাকে। তিনি বলেন, সন্তান সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় বহু দেশ সমস্যায় পড়েছে।
জনসংখ্যা বিষয়ে অভিজ্ঞ মহলের মতে, এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি চিন, জার্মানি, জাপানে। শেষের দুই দেশে জন্মহার মাইনাসে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে, আয়ুষ্কাল বেড়ে যাওয়ায় প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ওই সব দেশে। ফলে একাকি প্রবীণের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ভাগবত পরিবারের ভারতীয় দর্শনের কথা বিবেচনায় রেখে সন্তান বৃদ্ধির ডাক দিয়েছেন। ভারতেও গ্রাম শহর নির্বিশেষে একাকি প্রবীণের সংখ্যা বাড়ছে।