
শেষ আপডেট: 21 October 2023 10:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বপ্ন সফল।
সপ্তমী সকালে গগনে ডানা মেলল গগনযান। আজ এই মিশনের প্রথম ধাপ পার হল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ২০২৫ সালের গগনযান মিশনের মাধ্যমে প্রথমবার নিজেদের মহাকাশযানে চাপিয়ে নভোশ্চরদের মহাকাশে পাঠাতে চায় ইসরো। সেই অভিযান বাস্তবায়িত করতে আজ প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হল। এটি গগনযান মিশনের প্রথম ধাপ 'টেস্ট ভেহিকল অ্যাবর্ট মিশন-১' ।
ইসরো জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠের ১৭ কিলোমিটার মতো উপরে উঠবে 'টেস্ট ভেহিকল অ্যাবর্ট মিশন-১'। আজ যে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হল, তাতে রয়েছে 'ক্রু মডিউল' এবং 'ক্রু এসকেপ মডিউল'। ২০২৫ সালে যখন গগনযান মিশন হবে, তখন নভশ্চরদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে 'ক্রু মডিউল' এবং 'ক্রু এসকেপ মডিউল' কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা যাচাই করে দেখতেই আজকের এই পরীক্ষা চালাচ্ছে ইসরো।
পৃথিবীর মাটি থেকে ১৭ কিলোমিটার ওপরে উঠে 'ক্রু মডিউল' এবং 'ক্রু এসকেপ মডিউল' আলাদা হয়ে যাবে। খুল যাবে বহু প্যারাশ্যুট। তারপর তা ফের পৃথিবীর দিকে নেমে আসবে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা উপকূল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে অবতরণ করবে সেই মডিউল। সেটি উদ্ধার করে নিয়ে আসবে ভারতীয় নৌবাহিনী।
গগনযান মিশনে মহাকাশে মানুষ পাঠাতে চায় ইসরো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ কিমি উচ্চতায় একটি মহাকাশযান পাঠাতে চলেছে ইসরো। সেই যানে থাকবেন তিন মহাকাশচারী। তিনদিন পর সেটি পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
মহাকাশে কোনও দুর্ঘটনার হাত থেকে ভারতীয় মহাকাশচারীদের বাঁচাতে ক্রু এস্কেপ সিস্টেম (সিইএস)-এর উপর ভরসা রাখছে ইসরো। মহাকাশে কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশে তৈরি এই উন্নত প্রযুক্তিই দেশের মহাকাশযাত্রীদের প্রাণ রক্ষা করবে বলে দাবি ইসরোর।
‘ক্রু এস্কেপ সিস্টেম’ একটি ফাইটার জেটের চালক আসনের মতো কাজ করে। যেখানে এক জন চালক যে কোনও পরিস্থিতিতে জেট থেকে ওই আসন সমেত বাইরে আসতে পারেন। আসনে থাকা প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করতে পারেন।
কী এই ক্রু এস্কেপ সিস্টেম?
ক্রু এস্কেপ সিস্টেমকে বলা হয় লঞ্চ অ্যাবোর্ট সিস্টেম (Launch Abort System)। জরুরি অবস্থায় অবতরণের জন্য গগনযানে এই বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে ইসরো। ঠিক যেমন এমার্জেন্সি এক্সিট থাকে এটিও তেমনই।
যদি যান্ত্রিক গোলযোগ হয় বা বিপদ আসে তাহলে নভশ্চরদের নিয়ে এই সিস্টেম মহাকাশযানের বাইরে বেরিয়ে আসবে। এরপরে রকেটে বিস্ফোরণ হলেও যাত্রীরা বেঁচে যাবেন। এর আগেও মহাকাশে মানুষ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বড় বিপদ এসেছিল। মৃত্যু হয়েছিল মহাকাশচারীদের। এবার সেই বিপদ এড়াতেই এমন ব্যবস্থা রেখেছে ইসরো।
ক্রু এস্কেপ সিস্টেম (CES) ছোটোখাটো রকেটের মতো যেটি গগনযানের ভেতরেই থাকবে। এটি ১৫.৫ মিটার লম্বা এবং এর সামনের অংশে থাকবে তরল জ্বালানি। এর সঙ্গে থাকবে পাঁচরকম মোটর। যদি কোনওকারণে গগনযান রকেটের কোনও ত্রুটি হয়, তাহলে এই রকেটের মতো অংশটা বিচ্ছিন্ন হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে। তারপর নিরাপদেই নেমে আসবে পৃথিবীতে।
গগনযানের যাত্রা হবে তিনটি পর্যায়ে। দু’টো আনম্যানড-মিশন এবং একটা ম্যানড-মিশন। প্রথম ‘ম্যানড মিশন’ মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে মাইলস্টোন হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ।