অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে বহু দম্পতিকে প্রতারিত করা হয়েছে— তাঁদের কাছ থেকে ‘সারোগেসি’ বা ‘আইভিএফ’-এর নামে কোটি কোটি টাকা নেওয়া হত। প্রতিটি সন্তানের জন্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেষ আপডেট: 22 October 2025 20:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদে শিশু বিক্রি হচ্ছে ৪০ লাখে! এক ফার্টিলিটি সেন্টারকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর শিশুবিক্রি চক্রের পর্দা ফাঁস করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নজর দিয়েছে ওই ক্লিনিক-ইউনিভার্সাল 'সৃষ্টি ফার্টিলিটি সেন্টার' এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ডঃ এ. নম্রতার আর্থিক লেনদেনের দিকেও।
ইডি সূত্রে খবর, পুলিশি গ্রেফতারির পর ওই চিকিৎসককে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে জেরা করেছে সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে এই ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রতারণা, বেআইনি সারোগেসি আর নবজাতক বিক্রির ব্যবসা চলছিল।
২০১৯ সাল থেকে একাধিক থানায় মামলা দায়েরের পর ইডি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী ইসিআইআর (ECIR) নথিভুক্ত করেছে। অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে বহু দম্পতিকে প্রতারিত করা হয়েছে-তাঁদের কাছ থেকে ‘সারোগেসি’ বা ‘আইভিএফ’-এর নামে কোটি কোটি টাকা নেওয়া হত। প্রতিটি সন্তানের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা গরিব মহিলাদের কাছ থেকে শিশু ‘কেনার’ পর তা নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে ‘বিক্রি’ করতেন। এমনকি ডিএনএ রিপোর্টও জাল করা হত এই পুরো প্রক্রিয়ায়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই বেআইনি কাজের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে ছিল তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন শহরে- হায়দরাবাদ, বিজয়ওয়াড়া, বিশাখাপত্তনম-সহ একাধিক জায়গায়। ২০২১ সালে ক্লিনিকটির লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলেই প্রাথমিক অনুমান। এমনকি সূত্রের দাবি, এই চক্রের যোগসূত্র কলকাতাতেও পৌঁছেছে।
গত মাসেই ইডি নয়টি স্থানে তল্লাশি চালায়-অভিযুক্তদের ক্লিনিক, বাড়ি ও অফিসে। বিশাল অঙ্কের লেনদেন-সংক্রান্ত একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। জানা গিয়েছে, দম্পতিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নগদ টাকা দিতেন, আর সেই টাকা কুরিয়ার মারফত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানো হত।
এই মামলার তদন্ত করছে হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ক্রাইম স্টেশনের বিশেষ দলও। ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে-যাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, এজেন্ট ও টেকনিশিয়ানরা। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের কয়েকজন চিকিৎসকও এই চক্রে জড়িত সন্দেহে সাসপেন্ড হয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, ইডির প্রবেশে এই জালিয়াতির আরও অনেক দিক প্রকাশ্যে আসবে-বিশেষ করে, এই অবৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত সম্পত্তির হদিশ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।