
জনগণনা শুরু হবে পরের মাস থেকে।
শেষ আপডেট: 22 August 2024 10:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের জনসংখ্যা এখন কত? ভারত সরকারেরও এই প্রশ্নের জবাব জানা নেই। ধরে নেওয়া হয় ১৪০ কোটির বেশি। প্রকৃত সংখ্যা অজানা থাকার কারণ, নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২০২১-এ জনগণনা হয়নি। তখন করোনার কারণে পিছিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে আর জনগণনা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার। যদিও প্রতিবেশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান-সহ বিশ্বের বহু দেশ করোনা পরবর্তী সময় জনগণনার কাজ সেরে ফেলেছে। আগের হিসাব বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রসংঘ কয়েক মাস আগে জানিয়েছে, চিনকে ছাপিয়ে ভারত এখন জনসংখ্যায় বিশ্বে এক নম্বর দেশ।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অবশেষে ভারত সরকারও জনগণনা করতে অগ্রসর হচ্ছে। এই ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ সেন্সাস চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য নথিপত্র প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠিয়েছে। গণনার ফল জানা যাবে ২০২৬-এর মার্চে।
জনগণনা প্রতি দশ বছর অন্তর হয়ে থাকে। এবার পনেরো বছর পর গণনা হবে। ২০২৫-এর কোন তারিখ পর্যন্ত গণনা করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নয়, এবার জনগণনার জন্য তথ্য নেওয়া হবে মোবাইলে। যে সব এলাকায় মোবাইল যোগাযোগ নেই বা যারা তা ব্যবহার করেন না, সেই সব এলাকা ও বাড়িতে জনগণনা কর্মীরা যাবেন। এবার শেষ পর্যন্ত গণনায় কোন পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে তা জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, করোনা দূর হওয়ার পরও জনগণনা করতে বিলম্ব নিয়ে সরকারের উপর চাপ বাড়ছিল। সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টারাও এই ব্যাপারে সরব হন বিভিন্ন সময়। সরকারের বাইরেও অর্থনীতিবিদ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনাকারীদের বক্তব্য ছিল জনগণনায় শুধু মাথা গোনা হয় না। আর্থ-সামাজিক চিত্রও উঠে আসে। ফলে উন্নয়নে বৈষম্য দূর করার জন্যও জনগণনা করা দরকার।
সরকার এতদিন এই ব্যাপারে অগ্রসর না হওয়ায় বিরোধী দলগুলিও নানা প্রশ্ন তুলছিল। রাহুল গান্ধী দাবি তুলেছেন, জনগণনার সঙ্গে কাস্ট সেন্সাসও করাতে হবে। এখন দেখার মোদী সরকার কী পদক্ষেপ করে।