
শেষ আপডেট: 2 March 2024 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেম করে বিয়ে যেমন বেশি হচ্ছে, তমনই বাড়ছে ডিভোর্স। প্রেমের বিয়েতেই সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। তাই হিন্দু বিবাহ আইনে বদল আনার প্রয়োজন বলে মনে করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একটি বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট আদালতের। এবিষয়ে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশও করেছে উচ্চ আদালত।
৩০ বছর ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত এক চিকিৎসক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। পেশায় তাঁর স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। ২০০৭ সালে প্রেম করে হিন্দু আইন মেনে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। যা ছিল সেনাবাহিনীর চিকিৎসকের দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। যার জেরে ২০১৫ সালে পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন স্বামী।
বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনের পরেই চিকিৎসক স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। সেই সময় পারিবারিক আদালত স্বামীর আবেদন খারিজ করে দেয়। পারিবারিক আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্বামী।
সম্প্রতি সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিবেক কুমার বিড়লা এবং বিচারপতি দোনাদি রমেশের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রেমের বিয়েতে সবসময় দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না। দাম্পত্য কলহের জন্য স্বামী বা স্ত্রী কে প্রকৃত দায়ী, তা বিবেচ্য নয় বলেও মত তাঁদের। আসলে অতীতের একাধিক ঘটনার রায় দিতে গিয়ে তাঁদের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতিদ্বয়।
এরপরই হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত যে আইন বর্তমানে আছে, তার ভিত্তি সংশোধনের উপরও জোর দিয়েছে হাইকোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চের মতে, বর্তমান সময়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিবাহ বিচ্ছেদ আইন পরিবর্তন করা উচিত। কারণ হিসাবে আদালত জানিয়েছে, ১৯৯৫ সালে হিন্দু বিবাহ আইন যখন তৈরি করা হয়েছিল, তখন বিবাহকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করা হত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাই এখন আইন বদলের প্রয়োজন আছে বলে মত ডিভিশন বেঞ্চের।
তবে এখানেই শেষ নয়, সেনাবাহিনীর চিকিৎসকের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকেন। হাইকোর্ট জানিয়েছে, এতে স্পষ্ট যে স্ত্রী বৈবাহিক সম্পর্ক রাখতে চান না। যা স্বামীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বলে মনে করছে উচ্চ আদালত। এরপরেই স্বামীর আবেদন মেনে ডিভোর্স মঞ্জুর করে।