
শেষ আপডেট: 17 October 2023 20:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর সাদা মনে সত্যিই কাদা নেই। ঘাড়ে বিষম ব্যথা। ‘নেক পিলো’ ব্যবহার করেও ব্যথা কমছে না। অগত্যা ঘাড় হেলিয়ে ম্যাসাজ নিতে নিতেই অফিস মিটিং সারলেন তিনি। আর ম্যাসাজের সময় তো জামাকাপড় পরে থাকা যায় না। তাই অগত্যা খালিয়ে গায়েই বসলেন মিটিংয়ে। ব্যাপারটাকে হাল্কাভাবেই নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু খোদ এয়ার এশিয়ার সিইও খালি গায়ে অফিস মিটিংয়ে বসেছেন আর এক সুন্দরী তাঁর ঘাড়-পিঠ ম্যাসাজ করে দিচ্ছেন, এই দৃশ্যটা মোটেই শোভনীয় লাগেনি কারও। আর তাই সেই ছবিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে।
সত্যিই এয়ার এশিয়ার সিইও টোনি ফার্নান্ডেজের সাদা মনে কাদা ছিল না। সহজভাবেই ব্যাপারটা বুঝিয়ে নিজের লিঙ্কডইনে ম্যাসাজ নেওয়ার ছবিটা পোস্ট করেছিলেন তিনি। বোঝাতে চেয়েছিলেন, তিনি খুব ‘উদার’। ঘাড়ে-পিঠে ব্যথা হতেই পারে, তাই ম্যাসাজ নিতে নিতেই মিটিংয়ে জরুরি আলোচনা সেরে নিচ্ছেন। এ আর এমন কী ব্যাপার! বিমানযাত্রায় এমন ঘাড়ে ব্যথা অনেকেরই হয়। সেটা লুকিয়ে কষ্ট নিয়ে কাজ করার দরকার নেই। সিইও টোনির বক্তব্য, তাঁর অফিসে ‘ওয়ার্ক কালচার’ বেশ উদার ও খোলামেলা। তাই খালি গায়ে ম্যাসাজ নিতে নিতেও ম্যানেজমেন্ট মিটিং সেরে নেওয়া যায়। কাজটা ভাল করে করলেই হল।
লিঙ্কডইনে একটা সুদীর্ঘ পোস্ট করে ফেলেছিলেন তিনি, আর পরে তা তুলে নেন, সেই পোস্টে লেখা ছিল, “একটা চাপের সপ্তাহ কেটেছে। ভেরানিতা ইয়োসেফিনে পরামর্শ দিলেন ম্যাসাজ নেওয়ার। ভালোবাসতেই হবে ইন্দোনেশিয়া আর এয়ার এশিয়ার সংস্কৃতিকে, যেখানে আমি ম্যাসাজ নিতে নিতে ম্যানেজমেন্ট মিটিং ও করতে পারি। আমরা এগোচ্ছি, আর আমি এখন চূড়ান্ত করে ফেলেছি ক্যাপিটাল এ স্ট্রাকচারও। অনেক এক্সাইটিং দিন আসছে।”
হোমড়া চোমড়া সিইও যতই উদার কর্ম সংস্কৃতির বুলি আওড়ান না কেন, এমন জামাকাপড় খুলে খালি গায়ে অফিস মিটিংয়ে বসার ব্যাপারটা সোশ্যাল মিডিয়ায় মোটেই উদারতার চোখে দেখেনি। বরং নানা টিপ্পনী, হাসি-মস্করা চলছে সিইওকে নিয়ে। অফিসে এইভাবে আচরণ করাকে অনেকেই অস্বস্তিকর বলছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কর্মসংস্কৃতি তুলে ধরার এটাই কি সেরা উপায়।’ আবার অনেকে কৌতুকের সঙ্গে লিখেছেন, “যদি টোনির জায়গায় কোনও মহিলা এমনটা করতেন, তাহলেও কি তাঁকে উদার বলা যেত?