
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
শেষ আপডেট: 25 March 2024 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে হোলির ছুটি মিটতেই দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের তরফে মহা সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। আপাতত ঠিক আছে ৩১ মার্চ রামলীলা ময়দানে এই সমাবেশ হবে।
আপ নেতা আতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ এবং দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অরবিন্দর সিং লাভলিরা রবিবার যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছন। দুই দলের তরফেই জানানো হয়েছে, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের মুখ্যমন্ত্রী এবং দলীয় প্রধানেরা সমাবেশে হাজির থাকবেন। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের দিল্লি রাজ্য কমিটির সম্পাদকও। রবিবার সিপিএম দিল্লির একাধিক জায়গায় কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদে সভা করে। ৩১-এর সমাবেশে সিপিএমের তরফে সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, বৃন্দা কারাতরা থাকবেন বলে ঠিক আছে। কংগ্রেসের পক্ষে মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং রাহুল গান্ধীর থাকার কথা। কিন্তু বাকি দলের নেতা, মুখ্যমন্ত্রীদের ব্যাপারে আয়োজকরা এখনও নিশ্চিত নন।
ফলে সমাবেশের দিন ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ওই সমাবেশ আদৌ ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারবে কি না তা নিয়ে ঘোর সংশয় দেখা দিয়েছে। ঘরোয়া আলোচনায় সমাবেশে হাজিরা নিয়ে আপ নেতৃত্ব এখনও তেমন ইতিবাচক সাড়া পায়নি বলে দলীয় সূত্রের খবর।
নির্বাচনী ব্যস্ততার কথা বলে অনেক নেতাই রামলীলা ময়দানের ওই সমাবেশ এড়িয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছেন। যদিও আপের পাশাপাশি কংগ্রেসও ৩১-এর সমাবেশকে ঐতিহাসিক রূপ দেওয়ার চেষ্টায় নেমেছে। কিন্তু জোটের অনেক নেতাই ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে সমাবেশ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। ভোটের মুখে এজেন্সির মুখোমুখি হতে চান না অনেক নেতাই। কোনও কোনও দল আবার ছোট, অপরিচিত নেতাদের পাঠিয়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলেছে।
হোলির পরই কেজরিওয়ালের জামিনের আবেদনেরও শুনানি হবে। কেজরিওয়াল দ্রুত মুক্তির আশার কথা বললেও দল মনে করছে, লোকসভা ভোট পর্যন্ত আপ সুপ্রিমোকে জেলে থাকতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে লোকসভা ভোটে কেজরিওয়ালের গ্রেফতারিকে কাজে লাগাতে চাইছে আপ ও কংগ্রেস। দিল্লিতে দুই দলের আসন সমঝোতা কেজরিওয়াল ও রাহুল গান্ধীর মধ্যস্থতায় হয়েছে।
আপ দিল্লিতে বারো বছর সরকার চালালেও রাজধানীর সাতটি লোকসভা আসনের একটিও কখনও জিততে পারেনি। ‘কেন্দ্র বিজেপির, রাজ্য কেজরিওয়ালের’—দিল্লিবাসীর বড় অংশ এই অঙ্ক মাথায় রেখে ভোট দিয়েছে ২০১৪ ও ২০১৯-এর নির্বাচনে।
আপ নেতারা মনে করছেন, কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের ফলে দিল্লির উপকৃত গরিব মানুষ এবার সিমপ্যাথি ফ্যাক্টরে লোকসভা ভোটেও তাদের বেছে নেবে। তাছাড়া, এবার আপের সঙ্গে কংগ্রেসের ভোটও যোগ হবে। অন্যদিকে, কংগ্রেসও মনে করছে আপের ভোট পেলে হাত শিবিরও বহু বছর পর দিল্লি থেকে সংসদে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে।
কিন্তু দুই দলের অন্দরেই সংশয় আছে, ৩১-এর মহা সমাবেশে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের থেকে কতটা সাড়া মিলবে। গত বৃহস্পতিবার কেজরিওয়াল গ্রেফতার হওয়ার পর একাধিক শরিক দলের নেতা নিন্দা করে বিবৃতি দিলেও কে আগে মুখ খুলবে সেই ভাবনা যে কাজ করেছে তা চাপা থাকেনি। প্রতিবাদ-প্রতিক্রিয়ার সুর তেমন চড়া ছিল তাও বলা যাবে না। ফলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, ৩১ মার্চের সভা ইন্ডিয়া জোটের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে।